স্যানিটেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংস্থাগুলো বলছে, ইমারজেন্সি স্যানিটেশনের জন্য এটা ঠিক আছে। কিন্তু ছয় মাসের ব্যবধানে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এখনও মানুষ আসা অব্যাহত আছে। এসব ক্যাম্প থেকে কতদিনে রোহিঙ্গাদের সরানো হবে, বা স্থায়ী টয়লেট কতদিনে নির্মাণ করা সম্ভব হবে, সে পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত না হওয়ায় শঙ্কা বাড়ছে।
কক্সবাজারে ছয় হাজার একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং পাহাড়ে এখন রোহিঙ্গাদের বসতি৷ জমির পরিমাণ বেড়ে আট হাজার একর হওয়ার আশঙ্কা করছে বনবিভাগ৷ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন উজাড় করে এই বসতি স্থাপনের কারণে এখানকার পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে৷ বার বার বন উজাড়ের কথা বলা হলেও সেখানে অপরিকল্পিত স্যানিটেশনের কারণে বাতাস আর মাটি বিষাক্ত হয়ে উঠবে। এ বিষয়টি এখনও সংশ্লিষ্টদের নজরদারির বাইরে।
তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে পাঁচ রিং মানে পাঁচ ফিটের বেশি উচ্চতার জায়গা করে ল্যাট্রিন বানানো হয়ে থাকলে, সেটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এক-দুই দিনের জন্য বানানো ল্যাট্রিন আমরা সমর্থন করি না। যদিও কেউ কেউ তা করেছে।’
কোথাও একটি রিং দিয়ে ল্যাট্রিন তৈরি করা হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একটি রিং দিয়ে বোধহয় কোথাও করা হয় নাই। দুই-তিনটা রিং দিতেই পানি উঠে গেছে এমন অনেক আছে।’ এই ল্যাট্রিন ব্যবহারে ভরে গেলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে যত তাড়াতাড়ি কাজটা করা দরকার ছিল, সে মোতাবেক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের ২৮টি টয়লেট ভরে গেছে। পাশেই আবার ২৮টি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যদি দ্রুত স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা না করা যায়, তাহলে ক্যাম্পের পরিবেশ ও স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কার কারণ আছে।’
ওয়াটার এইড -এর রোহিঙ্গা বিষয়ক প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৪০টি ইমার্জেন্সি ল্যাট্রিনের কাজ চলছে। আধা টন ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়েছে। যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয়। এখন জরুরি পরিস্থিতি। কিছু কিছু সংস্থা একটা রিং বসিয়ে দিয়েই বলার চেষ্টা করছে, অনেক বেশি জায়গাজুড়ে তারা কাজটা করেছে। এই সংখ্যা বাড়াতে গিয়ে বাস্তবে এসব খুব কাজে লাগছে না। এই দফায় যা করা হয়েছে স্যানিটেশনের জন্য সেটি যদি দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, সেটি হবে ভয়ঙ্কর। যেকোনও সময় ময়লা উপচে পড়বে এবং যথাযথভাবে ঢেকে না দেওয়ার কারণে বাতাস দূষিত হবে।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী গওহার নঈম ওয়ারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এসব ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা না করার ফল।এখনও হাজার হাজার লোক ওই দেশ থেকে আসছে। নো ম্যান্স ল্যাণ্ডে অপেক্ষা করছে অনেকে। আমরা যদি ভাবি, কোনও একদিন সকালে উঠে দেখব, রোহিঙ্গারা চলে গেছে তাহলে ভুল হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দিকে দু’টি রিং বসিয়ে দিয়েছিল। সেটা হয়তো ঠিক ছিল। এখনতো পরিস্থিতি সেখানে নেই।’
গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ‘যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য এদের (রোহিঙ্গাদের) এই এক জায়গায় রাখা সম্ভব না। কোনও মানুষকে এক জায়গায় রাখবেন,আর দূরে ল্যাট্রিন বানাবেন, তা তো হবে না। পাশেই রাখতে হবে। ফলে অবশ্যই এত ছোট পরিসরে এত মানুষকে রাখা যাবে না।’
ছবি: নাসিরুল ইসলাম