যেসব অভিযোগে ল্যাবএইড এমডিকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

ল্যাবএইডের এমডি ডা. এ এম শামীমদুর্নীতির অভিযোগে ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এ এম শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অতিরিক্ত ফি আদায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা না মানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে দুদক কার্যালয়ে ডা. এ এম শামীম উপস্থিত হলে দুদকের উপ-পরিচালক শামছুল আলম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগগুলোর তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন দুদক কর্মকর্তা জানান, ডা. শামীমের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নীতিমালা না মেনে কাজ করা, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন, এক খাতের জন্য ব্যাংক ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যয়ের মতো অভিযোগ রয়েছে এর মসধ্যে। সব অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই দুদক কর্মকর্তা।
ল্যাবএইড গ্রুপের এমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে দুদকের উপ-পরিচালক শামসুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ‘অ্যাসেট’ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সেটা ধরেই আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি বলা ঠিক হবে না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজকে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। আমাদের তদন্ত আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সেই চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজকে ডা. শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’
এর আগে, চলতি বছরের ১৭ মে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ল্যাবএইড হাসপাতালে অভিযান চালান দুদক কর্মকর্তারা। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দলটি ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতালের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেন। তখন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বেশকিছু কাগজপত্র চাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এসব কাগজপত্রগুলো দিতে না পারায় সেগুলো পরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় দুদক। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অক্টোবর দুদক কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ডা. এ এম শামীমকে ডেকে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ল্যাবএইডের এজিএম (করপোরেট কমিউনিকেশান) সাইফুর রহমান লেনিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুদকের একটি নীতিমালা রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, তারা হাসাপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে চায়। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নীতিমালা করবে। এসব কারণে তারা আমাদের কাছে কিছু কাগজপত্রও চেয়েছে, আমরাও দিয়েছি। আরও কিছু পেপার আপডেট করার জন্য সময় চেয়েছি। পেপার সাবমিট করাই আমাদের কাজ। তারা আমাদের কাছে যা জানতে চাইবে, আমরা সেগুলোর উত্তর দেবো।’
রোগীদের কাছ থেকে বেশি ফি নেওয়া ও এক খাতের ঋণ অন্য খাতে ব্যয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ প্রসঙ্গে আমরা আমাদের উত্তর দিয়ে দিয়েছি। তারা সেগুলো বিবেচনা করবেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্টও চেক করবেন।’