ভোর রাতের কুয়াশায় ভেসে কদিন আগেই হেমন্ত এসেছে। আশ্বিন শেষে আজ কার্তিক মাসের পঞ্চম দিন। কিন্তু দিনভর হালকা বৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যেন আবারও বর্ষা ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার পর থেকেই রাজধানীতে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। কোথাও থেমে থেমে, আবার কোথাও অবিরত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে আবহাওয়া অফিস ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অসময়ে হেমন্তের এই বৃষ্টি নগরবাসীকে কিছুটা ভোগান্তি দিয়েছে। তবে নগরের সড়কগুলোতে তেমন কোনও জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি।
আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার সারাদিন বৃষ্টি থাকতে পারে। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোর জন্য দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করা হয়েছে। এদিকে, সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় সড়কগুলোতে যানবাহনের উপস্থিতি কম ছিলো। যে কারণে যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের।
সকালে খিলগাঁও রেলগেট গিয়ে দেখা গেছে, শুক্রবার জন্য সড়কে তেমন কোনও যানবাহন নেই। ফাঁকা রাস্তায় রিকশা, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও কিছু গণপরিবহন চলছে। এসব পরিবহনেও যাত্রীদের উপস্থিতি কম ছিল। চালকের সহযোগীরা ডেকে ডেকে পরিবহনে যাত্রী তোলার চেষ্টা করছেন।
পল্টনের একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেও ভালোই লাগছে। কারণ রাস্তায় যানজট নেই। রিকশায় করে ফাঁকা রাস্তায় অফিসে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না। যখন বৃষ্টির সঙ্গে জলজট এবং যানজট দেখা দেয় তখনই ভোগান্তি মনে হয়।’
দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গতিতে গাড়ি চলাচল করছে। কোথাও তেমন কোনও ট্রাফিক সিগন্যালের কবলে পড়তে হচ্ছে না যানবাহনগুলোকে।
মিরপুর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি মানববন্ধনে যোগ দিতে এসেছেন রাজিব হোসেন। তিনি বলেন, ‘মনে করেছিলাম বৃষ্টির কারণে একটু জ্যাম হবে। তাই কিছু সময় হাতে রেখেই বাসা থেকে বের হয়েছি। কিন্তু মাত্র ২৫ মিনিটেই মিরপুর ১২ নম্বর থেকে প্রেসক্লাবে চলে এসেছি। বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চলছে, ভালোই লেগেছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বনশ্রী, দক্ষিণ বনশ্রী, পূর্ব রামপুরা, খিলগাঁও, বাসাবো, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, পল্টন, শাহবাগ, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান, বনানী, উত্তরাসহ প্রায় সবখানেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে এসব এলাকায় তেমন কোনও জলজট বা যানজট দেখা যায়নি।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিনপূর্ব ও পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে দুই নম্বর নৌ হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যত্র দক্ষিনপূর্ব ও পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গুটি গুটি বৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে পানি সহজেই নেমে যাচ্ছে। কোথাও জলজটের খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও পরিদর্শকরা মাঠে আছেন।’