আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই কারাগারে

আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক (ফাইল ছবি)মুদ্রা পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার পৃথক চার মহানগর হাকিম জামিন আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার তিন ভাই আইনজীবী কাজী মুজিবুল্লা হিরোর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। দিলদার আহমেদ রমনা, ধানমন্ডি ও উত্তরা পূর্ব থানার তিন মামলায় এবং তার দুই ভাই গুলশান থানার দুই মামলায় আদালতে হাজির হন।

এর আগে সোমবার সেলিম এবং রবিবার গুলজার ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দিলদার আহমেদ রমনার থানার মামলায় মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন, ধানমন্ডি থানার মামলায় মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার ও উত্তরা পূর্ব থানার মামলায় মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। শুনানি শেষে তিন মামলাতেই জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিন মহানগর হাকিম।

আপন জুয়েলার্সের বাকি দুই মালিক গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন মহানগর হাকিম আহসান হাবিব।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সাহিদুর রহমান জানান, এসব মামলায় আসামিরা ২২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি। এরপর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১২ আগস্ট রাজধানীর চার থানায় আপন  জুয়েলার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। চোরাচালানের মাধ্যমে আনা প্রায় ১৫ মণ সোনা ও হীরা আটক এবং এসব মূল্যবান সামগ্রী কর নথিতে উল্লেখ না করে গোপন রাখার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাগুলো করা হয়।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই ছাত্রীকে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সেলিমের ছেলে সাফাত আহমদ ও তার সহযোগী। এরপর আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ব্যবসার অভিযোগ উঠলে মাঠে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

আরও পড়ুন:

আপন জুয়েলার্সের দিলদারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা