রাজধানীর ডেমরা ও গাজীপুর এলাকা থেকে জালিয়াত চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে জাল সার্টিফিকেট, ভুয়া বিআরটিএ লাইসেন্স, গাড়ির নকল ডিজিটাল নম্বরপ্লেট এবং এসব সামগ্রী তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব ১০ এর পরিচালক ডিআইজি মো.শাহাবু্দ্দিন খান।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ডেমরা কোনাপাড়া শূন্য টেংরা এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব ১০। এসময় মো. জাকির হোসেন বাবুলকে (৩২) আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার কাছে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে গাজীপুর সদর থানার মীরেরবাজার এলাকার সাতপোয়া থেকে মো. মাসুদ হাওলাদারকে (৩৪) আটক করে র্যাব।
র্যাব ১০ এর পরিচালক ডিআইজি মো.শাহাবু্দ্দিন খান বলেন, ‘মো. জাকির হোসেন বাবুল ২০০৮ সালে সরকারি সোহরওয়ার্দী কলেজ হতে ডিগ্রি পাস এবং মো. মাসুদ ১৯৯৫ সালে নিউ পল্টন লাইন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করে। জাকির ২০০৩ সাল থেকে নীলক্ষেত এলাকায় একটি দোকানে সাইনবোর্ড, ব্যানার, সিল ও কম্পিউটার কম্পোজের আড়ালে জালিয়াতির ব্যবসা করে আসছিল। ২০১৬ সালে তার সহযোগী হিসাবে যোগ দেয় মাসুদ। কিন্তু গত ৮-৯ মাস আগে নীলক্ষেত ব্যবসায়ী সমিতি বহুতল বিল্ডিং নির্মাণের কারণে তাদের দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর থেকে জাকির তার নিজ বাসা ডেমরা কোনাপাড়া থেকে জালিয়াতির কাজ করে আসছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সুক্ষভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ট্রেনিং সেন্টারের জাল সার্টিফিকেট, নকল রেভিনিউ স্ট্যাম্প, বিআরটিএ’র নকল ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নকল ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং নকল হলোগ্রাম স্টিকার তৈরি করে আসছিল তারা।’
র্যাব ১০ এর পরিচালক ডিআইজি মো.শাহাবু্দ্দিন খান আরও জানান, ‘এ চক্রের সদস্য রিপন, আরিফ ও রফিকসহ বেশ কয়েকজন। এরা নকল ও জাল জিনিস জাকিরের কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিত। এসব জাল সার্টিফিকেট পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা, নকল ডিজিটাল লাইসেন্স পাঁচশ এবং গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট দেড় হাজার থেকে দু্ই হাজার টাকায় বিক্রয় করা হতো।’ এসবের সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।