পুলিশের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, আবু ঈসা বাঙ্গালী ওরফে সাগর নব্য জেএমবির বর্তমান আমির। সে হলি আর্টিজান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহকারী। এই জঙ্গি বোমা তৈরি ও অস্ত্র চালনায় বিশেষ পারদর্শী। এর আগে সে কখনও গ্রেফতার হয়নি। কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ অঞ্চলের সব জঙ্গি আস্তানা তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সিটিটিসি সূত্রটি জানায়, গত দুই দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী ব্যাপক তৎপরতায় নব্য জেএমবি সাংঘঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় এই জঙ্গি সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে মারা যায়। অনেকেই গ্রেফতার হয়। এতে দ্রুত শীর্ষ পর্যায়ের পদবিতে রদবদল হতে থাকে। নব্য জেএমবিতে আসার পর সাগর দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব শূন্যতার সৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে সে আমিরের দায়িত্ব পায়।
এ প্রসঙ্গে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হলি আর্টিজান হামলা মামলা তদন্তেও জঙ্গি নেতা আবু ঈসা বাঙ্গালীর নাম উঠে এসেছে। মূলত অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহের কাজ করেছে সে। কিন্তু কখনও গ্রেফতার হয়নি এই জঙ্গি। মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করা সাগর নব্য জেএমবিতে অনেককেই নিয়ে আসে। জঙ্গি সংগঠনটিতে সে একেক গ্রুপের কাছে একেক নামে পরিচিত। তবে অনেকেই তার নাম ডা. আব্দুল্লাহ বলেছে। গত সেপ্টেম্বরে বোমা বিস্ফোরণে ময়মনসিংহের ভালুকায় নিহত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ আলম প্রামাণিকের ভাগ্নে ও নব্য জেএমবির সদস্য মামুনের সঙ্গেও এই সাগরের যোগাযোগ ছিল। অন্যদিকে দিনাজপুরে বাবুল মাস্টার ও সোহেল মাফুজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তার।’
প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর যশোরের ঘোপ নোয়াপাড়া সড়কের একটি জঙ্গি আস্তানা থেকে নব্য জেএমবির সাবেক সামরিক কমান্ডার ও গুলশান হামলার অন্যতম আসামি মারজানের বোন খাদিজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বামী মো. হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে আবু ঈসা বাঙ্গালী ওরফে জুলফিকার ওরফে ডা. আব্দুল্লাহ। পুলিশের অভিযানের তিনদিন আগে সে পালিয়ে যায়।
সিটিটিসির উপ-কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাগরের বিষয়ে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। সে দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির নেতা।’