সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জুরি বোর্ডের নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ নকশা ও স্থপতির নাম ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এর আগে নকশা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ৩৪টি দল। এর মধ্য থেকে সাত সদস্যের জুরি বোর্ড স্থপতি রশীদ ও তার দলের করা নকশাটিকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত করেন।
তাদের নকশা অনুযায়ী কারাগারের ‘জোন-এ’ তে সাড়ে তিন একর জমিতে মাল্টিপারপাস হল,কনভেনশন সেন্টার, সিনেপ্লেক্স,খাবার ঘর, সুইমিং পুল, গাড়ি পার্কিং,ওয়াটার বডি ও ব্যাংক থাকবে। কারাগারের নির্ধারিত ‘জোন বি’ -তে এক দশমিক ৪০ শতাংশ জমিতে বুক স্টোর, ফুলের দোকান, আন্ডার গ্রাউন্ড কার পার্কিং এবং ‘জোন সি’-তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর, চার নেতা কারা স্মৃতি জাদুঘর, কনফাইন্ড হেরিটেজ এবং উদ্যানটিও তৈরি হবে রশীদ ও দলের নির্বাচিত নকশা অনুযায়ী।
প্রতিযোগিতায় মোট ৩৪টি ডিজাইন জমা পড়ে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বিজয়ী ডিজাইনসহ পাঁচটি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। দ্বিতীয় পুরস্কার পান স্থপতি আমিনুল এহসান ও তার দল। তবে অংশগ্রহণের শর্ত ভঙ্গ করায় বাতিল করা হয়েছে তৃতীয় হওয়া প্রতিষ্ঠানের নকশা।
এছাড়া স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম দল, স্থপতি কাসিফ হাসনাইন দল ও স্থপতি আবু ফজল মাহমুদুন নবীর দলকে প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘চমৎকার সব প্রকল্প পরিকল্পনা জমা দিয়ে তরুণরা নিজেদের কর্মদক্ষতা প্রমাণ করেছে। নির্বাচিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরনো ঢাকাবাসীর আর কোনও আক্ষেপ থাকবে না। তারা গর্বের সঙ্গে বলতে পারবেন যে, ‘আমি চকবাজারে থাকি। আমি লালবাগে থাকি।’
কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, ‘কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পরপরই প্রধানমন্ত্রী এই কারাগারটিতে পুরনো ঢাকাবাসীর বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। আমরা সে অনুযায়ী কারাগারের মোট জমিকে তিনটি জোনে ভাগ করে কিছু শর্তাবলী আরোপ করে নকশা চাই। স্থপতিদের জন্য যেমন শর্ত মেনে নকশা দেওয়ার কাজটা কঠিন ছিল, জুরি বোর্ডের সদস্যদের জন্য সেরাটি নির্বাচন করাও ঠিক তেমনি কঠিন ছিল। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচিত নকশাটি দেখিয়েছি। তিনি এটি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি, আগামী বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে ‘জোন-সি’র পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’
প্রতিযোগিতায় জুরি বোর্ডের সদস্যরা হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. শায়ের গফুর, স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ এম আহমেদ এবং বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান ড. ইশরাত ইসলাম।
জুরি বোর্ডের সদস্যদের এক লিখিত সুপারিশে বলা হয়, পুরনো কারাগারের মাটি খনন করে প্রাপ্ত প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনগুলো কারা জাদুঘরে সংরক্ষিত থাকবে। খনন কাজ করার জন্য কারা মহাপরিদর্শক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া, প্রকল্পটিকে ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ইমারত বিধিমালা অনুসরণের পরামর্শ দেন তারা।
আরও পড়ুন:
রাখাইনের ৭০০০ মানুষকে ভেরিফিকেশন কার্ড দিয়েছে মিয়ানমার