একরাম হত্যা: মিনার চৌধুরীর জামিন স্থগিত

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা মিনার চৌধুরীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বার আদালত এ আদেশ দেন। ওই সময়ের মধ্যে তাকে নিয়মিত আপিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতে মিনার চৌধুরীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মিনার চৌধুরীর জামিন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। পাশাপাশি একই মামলায় অন্য দুই আসামি মো. শাহজালাল উদ্দিন ও জিয়াউর রহমান বাপ্পীকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিনও চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। মাসুদ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দু-একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি আছে। এ পর্যায়ে আসামি জামিনে থাকলে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পরে আদালত তাদের জামিন স্থগিত করেন।’

মিনার চৌধুরীকে গত বছরের ২৪ নভেম্বর ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট। পরে মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলে চলতি বছরের ১৯ মার্চ জামিন বাতিল করে দেন আপিল বিভাগ। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২২ অক্টোবর মিনার চৌধুরীকে ফের ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। এই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত সোমবার জামিনের ওপর চার সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন। স্থগিতাদেশের এই সময়ের মধ্যে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন)  করা হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপক্ষের  আইনজীবী।

২০১৪ সালের ২০ মে ফুলগাজী যাওয়ার সময় ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় একরামুলকে নিজের গাড়িতে গুলি চালানোর পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের বড় ভাই রেজাউল হক জসিম ওইদিনই ফেনী জেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক মাহাতাব উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০/৩৫ জনকে আসামি দেখিয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর ওই বছরের ২৭ মে গোয়েন্দা পুলিশ ঢাকা থেকে মিনারকে গ্রেফতার করে। মাঝে একবার তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তিও পেলেও এখন তিনি কারাগারেই আছেন।