মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) পূর্বনির্ধারিত আদেশ অনুযায়ী বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। এসময় আদালতে ওই ঘটনার ব্যাখা দিতে হাজির হন ওই অপারেশনে অংশ নেওয়া কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক শেখ হোসনে আরা বেগম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির মালিক মজিবুর রহমান ও কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রাহমান।
আদালতে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। পরে তিনি বলেন, ‘হাজির হওয়া ব্যক্তিরা আদালতকে জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে তারা কোনও অবহেলা করেননি। অপারেশন করে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা। কিন্তু তাদের এসব কথা মিথ্যা ছিল। আমরা তা আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছি।’
মাহফুজুর রহমান মিলন আরও বলেন, ‘ওই ক্লিনিকটির কোনও লাইসেন্স নেই। তাই রিট আবেদনের পরই ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন। এছাড়াও অপারেশনের ক্ষেত্রে যে গাফিলতি ছিল, তা আমারা আদালতকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছি। পরে আদালত সিভিল সার্জনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।’
এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবর আদালতের নজরে আনেন ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন। পরে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত এই তিন জনকে ৭ নভেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের আউয়াল হোসেনের স্ত্রী খাদিজা আক্তারকে (২২) গত ১৮ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দির গৌরীপুর লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন করা হয়। সেখানে খাদিজার পেটে একটি সন্তান রেখেই অপারেশন শেষ করার অভিযোগ ওঠে ডা. শেখ হোসনে আরার বিরুদ্ধে।
খাদিজার গর্ভে দুইটি সন্তান থাকলেও ডাক্তার শেখ হোসনে আরা অপারেশন করে একটি সন্তান বের করে অপরটি টিউমার বলে অপারেশন শেষ করেন। পরবর্তী সময়ে খাদিজা বাড়িতে যাওয়ার পর দীর্ঘ একমাস তার পেটে ব্যথা ছিল। এ নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে যান। পেটের ব্যথা বাড়তে থাকলে খাদিজা আক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বুধবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। দ্বিতীয় অপারেশনের পর খাদিজার গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি ২৯ অক্টোবর কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।