এছাড়া, এ মামলার অন্য আসামি নাজমুল হুদার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে সিগমা হুদা এ মামলায় কারাবাস করায় কারাগারে থাকাকালীন সময়কেই সাজা হিসেবে ধরে ওই তিন বছরের কারাদণ্ড মওকুফ করেছেন আদালত।
বুধবার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। এ মামলায় নিজের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এছাড়া সিগমা হুদার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আজমালুল হক কিউসি।
রায়ের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, বুধবার আদালতের রায়ের মাধ্যমে নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাকে আদালত সাজা দিয়েছেন। সাজা ছাড়াও তাকে জরিমানার দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।’
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন রায়ের বিষয়টি কমিশনকে (দুদক) জানাবো। তারা আপিলের সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। কেননা, সবাই বলে দুদকের প্রসিকিউশন মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে। কিন্তু আজ তা অপ্রমাণিত হয়েছে।’
নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২১ মার্চ দুদকের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাপ্তাহিক পত্রিকা 'খবরের অন্তরালে'র জন্য মীর জাহের হোসেনের কাছ থেকে দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী সিগমা হুদা।
পরে ২০০৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত মামলাটির রায়ে নাজমুল হুদাকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি তার স্ত্রী সিগমা হুদাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে নাজমুল হুদা ও সিগমা হুদা আপিল করলে ২০১১ সালের ২০ মার্চ তাদের খালাস দেন হাইকোর্ট।
এরপর দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর খালাসের রায় বাতিল করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদেশ পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনও খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর হাইকোর্টে এ মামলার পুনঃশুনানি নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: