ফুটপাত উদ্ধারে মন্ত্রী-এমপির রক্তচক্ষুকেও ভয় পাইনি: সাঈদ খোকন

সাঈদ খোকন (ফাইল ছবি)রাজধানী ঢাকার অনেক ফুটপাত দখলমুক্ত করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘ফুটপাত উদ্ধারে বিভিন্ন মহল থেকে অনেক প্রতিবন্ধকতা এসেছে। এমনকি মন্ত্রী-এমপির রক্তচক্ষুকেও ভয় পাইনি। আপনারা সাহস হারাবেন না। জনগণের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি।’

বুধবার (০৮ নভেম্বর) রাজধানীর নাজিরাবাজার সংলগ্ন বাংলাদেশ মাঠে ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ শীর্ষক এক সভায় তিনি একথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বাধা এসেছে কিন্তু আমাকে কেউ দমাতে পারেনি। গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত করেছি। প্রভাবশালীরা এজন্য আমাকে চাপ দিয়েছিল। তারপরও ফুটপাত হকারমুক্ত করেছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এর কারণ আমাদের খালগুলো দখল হয়ে আছে। সেখানেও প্রভাবশালীরা। তবুও আমরা খাল দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করেছি। কোনও বাধার কাছেই নত হবো না। যতই প্রভাবশালী হোক, আমরা রাজধানীর খালগুলো উদ্ধার করবো।’ এসময় মেয়র করপোরেশনের এসব উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘যানজট রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করবো। এজন্য নগরীতে চলাচলকারী বেসরকারি বাসগুলোকে পাঁচটি কোম্পানির আওতায় এনে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণপরিবহনে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। এখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক পাঁচটি কোম্পানির মাধ্যমে রাজধানীতে চার হাজার বাস নামানোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় সেই পদক্ষেপ এখনও কার্যকর হয়নি। আমরা সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে কাজ করব।’ 

এক পরিসংখ্যানের সূত্র ধরে সাঈদ খোকন বলেন, ‘প্রায় আড়াই কোটি মানুষের এই শহরে মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত গাড়িতে, ২৮ শতাংশ মানুষ রিকশায়, ২২ শতাংশ মানুষ হেঁটে এবং প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ বাসে বা গণপরিবহনে চলাচল করে। তাই গণপরিবহনকে উৎসাহিত করে বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

হাজারও সমস্যা থাকা সত্ত্বেও রাজধানী ঢাকার চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দক্ষিণের ৩০০ রাস্তা সংস্কার করেছি, প্রায় ৩৭ হাজার এলইডি বাতি লাগিয়েছি রাস্তায়। ঢাকার মানুষ বুকভরে নিশ্বাস নিতে পারতেন না। এজন্য ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের খেলার মাঠ ও পার্ক নতুন রূপে সাজানো হবে।’

অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগা সাদেক রোডের নাম সাবেক কাউন্সিলর প্রয়াত নাজির হোসেনের ও সিক্কাটুলী পার্কের নাম প্রয়াত খালেক সরদারের নামে নামকরণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন মেয়র সাঈদ খোকন। এছাড়া, সিক্কাটুলী মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলালসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

পরে মেয়র সাত কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ মাঠ এবং দুই কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য অন্যান্য মাঠ ও পার্কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।