সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের মৃত্যু: ক্ষতিপূরণ মামলার রায় মুলতবি

হাইকোর্টসড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দায়ের করা মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৯ নভেম্বর) বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে মামলার রায় পড়া শুরু হয়। কিন্তু আদালতের কার্যসময়ে রায় পড়া শেষ না হওয়ায় তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়।
এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ।
এর আগে, ২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীর। তারেক ও মিশুককে বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ ঘটে। তাতে তারেক-মিশুকসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জে মোটরযান অর্ডিন্যান্সে ১২৮ ধারায় বাসমালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দু’টি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় চালক জমির হোসেন, বাসমালিক কাসেদ মিয়া, মুজিবুল হক, মো. তুহিন ও রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়। আসামিদের সবাই জামিনে রয়েছেন।
মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ প্রথমে সাত কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৫২ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে ক্ষতিপূরণের দাবি বাড়িয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা করা হয়।
এরপর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা দু’টি জনস্বার্থে হাইকোর্টে স্থানান্তরের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদীরা। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদের আলোকে মামলাটি হাইকোর্টে বদলির জন্য বাদীদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ হাইকোর্টে ক্যাথরিন মাসুদের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলার শুনানি শুরু হয়।
আদালতে ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে সাত জন, বাস মালিক সমিতির পক্ষে পাঁচ জন ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে একজন সাক্ষী দেন।
এ মামলায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের পক্ষে শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা বাস মালিকদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার, রিলায়েন্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান এ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইহসান এ সিদ্দিকী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান।
মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আজ বুধবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী রায় পড়া শুরু হলেও তা শেষ করা যায়নি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে পুনরায় রায় পড়া শুরু করবেন হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন-
‘সিলেটের ডাক’ পত্রিকার প্রকাশনায় বাধা নেই
সাভারে পোশাক শ্রমিক হত্যার দায়ে দুই জনের মৃত্যুদণ্ড