বকেয়া বেতন পেলেন লাক্সমা সোয়েটারের শ্রমিকরা

 

বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা (ফাইল ছবি) বকেয়া বেতন পেয়েছেন গাজীপুরের লাক্সমা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিকরা। এ বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন তারা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সবার বকেয়া বেতন পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন লাক্সমা সোয়েটারের চেয়ারম্যান সাফিনা রহমান। প্রতিশ্রুতি অনুসারে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। 

শুক্রবার (১ নভেম্বর) লাক্সমা সোয়েটার লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাফিনা রহমান বলেন, ‘গাজীপুরের লাক্সমা সোয়েটার লিমিটেডের মালিক। গত ১৬ নভেম্বর প্রথম দফায় অর্ধেকের বেশি ও সর্বশেষ ৩০ নভেম্বর বাকি শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। আমি শ্রমিকদের আগেই নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিলাম যে, ৩০ নভেম্বর বাকিদের বকেয়া পরিশোধ করবো। আমি কথা রেখেছি। যথা সময়ে তাদের বেতন পরিশোধ করে দিয়েছি।’

তবে শ্রমিকদের সংগঠন ‘গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন’ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মালিকপক্ষ আন্দোলনের মুখে বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছে। সংগঠনটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের টানা অবস্থান কর্মসূচির কারণে মালিক বাধ্য হয়ে বকেয়া পরিশোধ করেছেন। এছাড়া সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্য দাবিগুলোর ব্যাপারে জানুয়ারিতে একটা ডেট দেওয়া হয়েছে। তখন সেগুলো পরিশোধ করা হবে।’







বেতন বুঝে পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন একাধিক শ্রমিক। তারা জানান, বকেয়া বেতন পেয়ে তারা খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এখন সার্ভিস বেনিফিট নির্ধারিত তারিখে দিয়ে দিলেই তাদের আর কোনও কিছু বলার নেই বলেও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত গাজীপুরের লাক্সমা সোয়েটার লিমিটেডে কাজ করেছেন শ্রমিকরা। তবে ৩০ অক্টোবর হঠাৎ করেই কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে আন্দোলনে নামেন প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকরা। প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১১০০ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছে মালিকপক্ষ। বাকিদের বেতন পরিশোধের জন্য গত ২৩ নভেম্বর তারিখ দেওয়া হয়েচিল। কিন্তু সেদিন বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে পারেননি মালিকপক্ষ। পরে এই মাসের ৩০ তারিখে বেতন পরিশোধের দিন ঠিক করা হয়। কিন্তু মালিকের দেওয়া তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে গত ২৬ নভেম্বর থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। প্রথমদিন কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শদন অধিদফতর এবং পরের দিন তৈরি পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর সামনে অবস্থান নেন তারা। আর এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন।