ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে এবার আন্দোলনে নামছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট

ডাকসু (ফাইল ছবি)

২৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে এবার আন্দোলনে নামার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষ ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করলে তারা লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ সমাবেশের মতো নানা কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে ২৫ নভেম্বর থেকে অনশন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সন্ধ্যাকালীন স্নাতকোত্তর কোর্সের ছাত্র ওয়ালিদ আশরাফ। তার এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে আগামী ১০ জানুয়ারি মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনশন চালিয়ে যাওয়া ওয়ালিদ আশরাফের প্রতি আমরা একাত্মতা পোষণ করি। একইসঙ্গে তার অনশনের ৯দিন পরও ঢাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের তৎপরতা না দেখায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ালিদ আশরাফের অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১ ডিসেম্বর জোটের পক্ষ থেকে অপরাজেয় বাংলার সামনে চোখে কালো কাপড় বেঁধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ১০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হলে লাগাতার আন্দোলনে যাবো আমরা।’

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সংসদের সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এর বাইরে জোট ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ওয়ালিদ আশরাফের অনশনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্ব না দেওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করে ছাত্রফ্রন্টের ঢাবি সভাপতি ইভা মজুমদার বলেন, ‘আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা কোনও কর্মসূচি এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। তবে আমরা জোটগতভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছি। ১০ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হলে জোটগতভাবেই আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ডাকসু নির্বাচন চায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলও। তবে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে এ সংগঠন দু’টির পক্ষ থেকে কোনও কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগ বলছে, প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন আদায় করতে হবে। আর ছাত্রদলের অভিযোগ, আন্দোলন করার মতো পরিবেশ রাখেনি সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়ালিদ আশরাফের দাবিকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু অনশন করে দাবি কতটা আদায় হবে, এ নিয়ে সন্দিহান আমরা।’

ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও চলে সরকারের ইশারায়। সরকারের কারণে ডাকসুর নির্বাচন হচ্ছে না। তবে পরিবেশ তৈরি করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়া উচিত কর্তৃপক্ষের। ডাকসু নির্বাচন হলে তাতে ছাত্রদল অংশ নেবে।’

ওয়ালিদ আশরাফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শিক্ষক প্রতিনিধি, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি, সিন্ডিকেট সদস্য, ডিন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনসহ সব সংগঠনের নির্বাচন নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু শুধু ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে না, এটা কেন! আগামী বিজয় দিবসের আগে ডাকসু নির্বাচন চাই।’

ডাকসুর সর্বশেষ ভিপি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্ঠা আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের দাবি যিনি অনশন করছেন, তার দাবিকে আমিও সমর্থন করি। আমি চাই, ছাত্র সংগঠনগুলোকে তাদের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হোক। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে ছাত্র সংসদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করুক।’