অনুষ্ঠানে বেগম মুশতারী শফীকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার পর ক্রেস্ট হাতে তুলে দেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, লেখক-নারী নেত্রী মালেকা বেগম, অধ্যাপক ফেরদৌস আরা আলীম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীরা। বেগম মুশতারী শফী বর্তমানে চট্টগ্রাম উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সম্পাদক, বেতার ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, নারীনেত্রী, সমাজসংগঠক ও সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। লিখেছেন উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর গল্পগ্রন্থ, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক বই। সব মিলিয়ে তার বইয়ের সংখ্যা প্রায় বিশ।
মুশতারী শফীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বামী ডা. মোহাম্মদ শফী ও তার বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছোটভাই এহসান শহীদ হন। তিনি ষাট দশকের শুরুতেই মফস্বল চট্টগ্রামে নারীদের সংগঠন ‘বান্ধবী সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে প্রকাশ করেন নারীদের নিয়মিত পত্রিকা ‘বান্ধবী’। চালু করেন নারী পরিচালিত ছাপাখানা, ‘মেয়েদের প্রেস’।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। প্রতিবছর একজন নারী-সাহিত্যিককে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত যারা এই পুরস্কার পেয়েছেন, তারা হলেন সেলিনা হোসেন, রিজিয়া রহমান, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, দিলারা হাশেম, রাবেয়া খাতুন, ড. সন্জীদা খাতুন, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম (মরণোত্তর), নূরজাহান বেগম, রাজিয়া খান, রুবী রহমান, পূরবী বসু, আনোয়ারা সৈয়দ হক, মকবুলা মনজুর, ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থ, সালেহা চৌধুরী, নূরজাহান বোস, মালেকা বেগম, কাজী রোজী, ড. নিয়াজ জামান, জাহানারা নওশিন, সোনিয়া নিশাত আমিন ও বেগম আকতার কামাল।