সোমবার (১১ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে বাংলা মাউন্টেইনারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
নিশাত বলেন, ‘বাংলাদেশের পাহাড়েও কান্না হচ্ছে। পাহাড়ের কান্না আমাদের বুঝতে হবে। ভূমিধস ও ভূমিদস্যুরা পাহাড়ের ক্ষতি করছে। বাড়ি বানিয়ে, গাছ কেটে ও বন উজাড় করে পাহাড় ধ্বংস করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের কারণে পৃথিবীর যেন কোনও ক্ষতি না হয়, পাহাড়ের কোনও ক্ষতি না হয়।’
জলবায়ু পরিবর্তনে পাহাড়ের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নিশাত বলেন, ‘পাহাড়কে ভালোবেসে আমরা পাহাড়ে যাই। সাদা বরফের পর্বতগুলো কালো হয়ে যাচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে। আমি নিজের চোখে পাহাড়ের এই পরিবর্তন দেখেছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘পাহাড় রক্ষায় জাতিসংঘের নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস একটি।’ হিমালয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হিমালয় না থাকলে বাংলাদেশ একটি মরুভূমি হতো। তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পর্বতের চেহারায়ও পরিবর্তন হচ্ছে।’
পাহাড় পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ আমরা কোনও অপচনশীল দ্রব্য পাহাড়ে ফেলবো না। ’
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘পর্বতের সঙ্গে সভ্যতার একটা সম্পর্ক রয়েছে। এটা একটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষার বিষয়গুলোকে বিস্তার করতে হবে। রক্ষা করার বিষয়ে মানসিকতা অত্যন্ত জরুরি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এন্টারটিকা ও সুমেরু অভিযাত্রী ইনাম আল হক। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সদস্যরা, নেপাল দূতাবাসের কর্মকর্তা, নেপাল থেকে আগত শিক্ষার্থী ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ট্যুরিস্ট সোসাইটির সদস্যরা।
২০০৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস ঘোষণা করে।