আদাবরে শিশু গৃহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ

লাশরাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকার একটি বাসায় আল আমিন (১২) নামের এক গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে বাসার মালিক জানিয়েছেন, বাথরুমে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নারী-পুরুষসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আল আমিন ৬/৭ মাস ধরে শেখেরটেকের ৪ নম্বর সড়কের ২৩/২৪ নম্বর বাড়ির তিন তলায় জোবায়ের হোসেনের ভাড়া বাসায় কাজ করতো। আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর আলম জানান, রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে শিশুটিকে মৃত্যুর খবর তারা পুলিশকে জানায়নি। শিশুটির গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ। সেখান থেকে তার পরিবার আসার পর আমরা সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানতে পেরেছি। বাসার মালিক ইচ্ছে করেই তথ্য গোপন করেছেন। তারা দাবি করছে, বাথরুমে পড়ে আল আমিনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আমরা ছেলেটির সারাশরীরে দাগ দেখতে পাচ্ছি। শরীর কঙ্কালসার হয়ে আছে। মনে হচ্ছে ছেলেটিকে ১৫ দিনেও খেতে দিতো না।’

এই ঘটনায় নারী ও পুরুষসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি।

আল আমিনের চাচা মানিক বলেন, ‘আল আমিন এই বাসায় ৬/৭ মাস ধরে কাজ করছে। আজ সকালে ওর বাবার কাছে তারা ফোন দিয়ে জানায়, আল আমিন অসুস্থ, আমাদের আসতে বলে। এরপর আমি আসি। এসে দেখি একটা চাদর দিয়ে ছেলেটাকে ঢেকে রাখা হয়েছে। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। চাদর উঠিয়ে দেখি ছেলেটার সারা শরীরে দাগ। এরপর পুলিশে খবর দেই। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’

তিনি বলেন, ‘ছেলেটিকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। পুরো পিঠ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা মামলা করবো।’