বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং করবে বিমান মন্ত্রণালয়

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরবিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিনই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আসে। এ কারণে বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের থাকা সিসি ক্যামেরার অনলাইন সংযোগ স্থাপন করে মনিটরিং করার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির দায়িত্বে থাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক সংস্থা কাজ করছে। সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কার্যক্রম তদারকির জন্য পুরো বিমানবন্দর এলাকায় অন্তত ২০০টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির। আরও  ৭০০ সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। কেন্দ্রীয়ভাবে সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে মনিটরিং করা হয় এসব সিসি ক্যামেরা। অন্যদিকে, নিজস্ব সংস্থার কার্যক্রম তদারকি ও নিরাপত্তার জন্য সিভিল এভিয়েশন ছাড়াও ঢাকা কাস্টম হাউস, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিসি ক্যামেরা রয়েছে বিভিন্ন স্থানে। বিমানবন্দরের একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে আমাদানি, রফতানি কার্গো ভিলেজসহ টার্মিনাল ভবনগুলোতেও সিসি ক্যামেরা রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে অভিযোগ আসে মন্ত্রণালয়ে। বিমানবন্দরে আমদানি করা পণ্য সরবরাহে দেরি হওয়া, মালামাল চুরি যাওয়া নিয়েও অভিযোগ করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া, কার্গো ভিলেজসহ বিমানবন্দরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ পাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

গত জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ের এক সমন্বয় সভায় ঢাকা কাস্টম এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা জানান, কার্গো ওয়্যারহাউসের ভেতরে বিমানের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বিভিন্ন পণ্যের রোলের ওপর থাকা কভার সরিয়ে ফেলেন, এতে মালামাল বৃষ্টিসহ আবহাওয়াজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সভায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুসাদ্দিক আহমেদ দাবি করেন, কিছু গার্মেন্ট পণ্য সময়মতো ডেলিভারি নেওয়া হয় না। ফলে ওয়্যারহাউসের জায়গা দখল হয়ে থাকে। বৈঠকে কার্গো ভিলেজের পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বিমানের দু’জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে ১২ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও সংশ্লিষ্ট এজেন্সি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে সিসি ক্যামেরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনলাইন সংযোগ স্থাপনে বেশি ব্যয় হবে বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বিমান। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে কাজটি সম্পাদনে মন্ত্রণালয় সুপারিশ করতে পারে বলেও জানায় বিমান। মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরের সেবা নিয়ে অভিযোগ আসে। একইসঙ্গে বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা হচ্ছে। সভায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা ব্যবস্থা নেওয়া ও অগ্রগতির তথ্য জানালেও ফের অভিযোগ আসে।

অন্যদিকে, যারা অভিযোগ করেন তাদেরও তথ্যগত ঘাটতি থাকে। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। এ কারণেই বিমানবন্দরের দুই সংস্থার সিসি ক্যামেরার অনলাইন সংযোগ মন্ত্রণালয়ে স্থাপন করতে বিমান ও সিভিল এভিয়েশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা সম্ভব হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও কার্যক্রম তদারকি করা সম্ভব হবে। 

এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) সদস্য এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিসি ক্যামেরা মনিটরিংয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা রয়েছে। কী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার বিমান মন্ত্রণালয়ে সংযোগ দেওয়া যায় সেটি নিয়ে কাজ চলছে।’