দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে শরীরে হানাদার বাহিনীর বুলেট বয়ে বেড়ানো বৃদ্ধা জোসনার চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বক্ষব্যাধি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। তিনি (জোসনা) যদিও মুক্তিযোদ্ধা না, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তার শরীরে রয়েছে। আমরা তাকে সব ধরনের সহায়তা করবো।’
জোসনার মেয়ে জোবেদা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মায়ের শরীর থেকে বেশ কয়েকবার রক্ত নেওয়া হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য। এরপর মা বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছেন। দুর্বলতা কাটানোর জন্য সেলাইন দেওয়া হচ্ছে। তাকে স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি স্যুপ খেতে বলেছেন চিকিৎসকরা।’
কেমন আছেন জানতে চাইলে জোসনা বলেন, ‘এহন ভালা আছি। আমার শরীরে কোনও অসুবিধা নাই।’
জোসনার জামাতা জালাল তার শাশুড়ির প্রসঙ্গে বলেন,‘ তিনি এতদিন কোনও ব্যথা বা সমস্যার কথা বলেননি। বললে তো আগেই চিকিৎসা করাতাম।’
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের ১৪/১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর বেডে ভর্তি আছেন জোসনা। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকার শাজাহানপুরে ছিলেন তিনি। সঠিক তারিখ মনে নেই তার। তবে ঘটনাটি মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের। রাতে স্বামীর সঙ্গে বিছানার ওপরে বসেছিলেন জোসনা। তিনি জানান,পাকিস্তানি বাহিনী তখন নির্বিচারে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি ছোড়ে। ঘরের চাল ফুটো হয়ে একটি গুলি এসে তার বুকে লাগে। সেসময় চিকিৎসকরা তার শরীর থেকে একটি গুলি বের করলেও আরেকটি থেকে যায়। গত ৪৭ বছর ধরে শরীরে এই গুলি বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। যদিও এতদিন কোনও সমস্যা হয়নি।
জোসনার স্বজনরা জানান, গত ২২ জানুয়ারি হঠাৎ কাশির সঙ্গে প্রচুর রক্তপাত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর এক্সরে রিপোর্টে তার শরীরে এই গুলির অস্তিত্ব দেখতে পান চিকিৎসকরা।
জোসনার স্বামী বোরহানুল্লাহ সাত বছর আগে মারা গেছেন। তাদের এক মেয়ে ও তিন ছেলে। সন্তানরা সবাই নিজের সংসারে ব্যস্ত। নাতি-নাতনির সংখ্যা ৯ জন। মেয়ে জোবেদা গৃহিণী। বড় ছেলে ইউসুফ খান চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন। মেজ ছেলে ইসমাইল খান অসুস্থ। ছোট ছেলে ওসমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের গাড়িচালক।
আরও পড়ুন:
৪৭ বছর ধরে হানাদারদের বুলেট বয়ে বেড়াচ্ছেন জোসনা