রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘যতদিন না জাতীয়করণের ঘোষণা পাই, ততদিন আমরা ঘরে ফিরব না। এই ধর্মঘট চলবে।’
সামনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ অবস্থায় ধর্মঘট ডাকলে পরীক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা এসএসসি পরীক্ষা বন্ধের ডাক দেইনি। তবে লাগাতার ধর্মঘট চললে এসএসসি পরীক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু আমরা জাতীয়করণের ঘোষণা বা আশ্বাস না পেলে ঘরে ফিরব না।’
এদিকে, ধর্মঘটের ডাক দিয়ে রবিবার রাতে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, লিয়াজোঁ ফোরামের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর দফতরে শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণের দাবিতে চতুর্থবারের মতো আলোচনায় বসেন। প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং আলোচনার ফল নেতাদের জানাবেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি শিক্ষক নেতাদের।
লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি থেকে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। এরপর ১৫ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু হয়েছে। তাতেও আমাদের দাবি মানা হয়নি। এখন, ২৯ জানুয়ারি থেকে লাগাতার ঘর্মঘট চলবে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।’
নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয়করণে আন্তরিক হলেও একটি মহলের চক্রান্তে শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আন্দোলন করছেন। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (শাহ আলম-জসিম), জাতীয় শিক্ষক পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন মিলে গঠন করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরাম। আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, গত ৫০ বছর ধরে জাতীয়করণের বিষয়টি ঝুলে আছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয়করণের বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন-
ফেসবুক বন্ধের বিষয়ে যা বলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও)