হাইকোর্টে জামিন জালিয়াতি: সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্ট

বাইশ হাজার পিস ইয়াবা আটকের মামলায় হাইকোর্ট থেকে আসামি মো. সেলিম কিভাবে জামিন পেলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত জামিন না দিলেও কিভাবে জামিনের অনুলিপি তৈরি হলো এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ইয়াবা আটকের মামলায় এক আসামির জামিনের শুনানিকালে বুধবার (৩১ জানয়ারি) বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান খান। অন্যদিকে আসামি মো. ফারুকের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও আইনজীবী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান মিসু।

এর আগে বাইশ হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় গত বছরের ৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করা হয়। থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুর রব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলার আসামিরা হলেন— আপন মজুমদার, দীপক দাস, মো. সেলিম উদ্দীন, মো. রফিক ও শিরিন সুলতানা। বর্তমানে মামলাটি বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরীর নেতৃত্বধীন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৫ এর আদালতে বিচারাধীন। 

এই মামলায় চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি আসামি মো. রফিক জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তখন রফিকের আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিমের কাছে জামিনের কারণ জানতে চান।

তখন আইনজীবী রেজাউল করিম আদালতকে জানান, ইতোমধ্যে এ মামলায় আসামি মো. সেলিম জামিনে পেয়েছেন। সেই শর্তে একই মামলার অন্য আসামি মো. রফিকেরও জামিন আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আদালত এমন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আসামি সেলিমের জামিন পাওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ওই জামিনের যাবতীয় নথিসহ জামিন শুনানির জন্য আদালত বুধবার পুনরায় দিন ধার্য করেন।

এর প্রেক্ষিতে বুধবার আসামি রফিকের আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম পূর্বে জামিন পাওয়া মামলার অন্য আসামি মো. সেলিমের নথিপত্র আদালতে দাখিল করেন। এরপর আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ওই নথিতে হাইকোর্টের বিভাগীয় দায়িত্বে থাকা স্বাক্ষরকারী তিন কর্মকর্তাকে তলব করেন। এরপর তলব করা ব্যক্তিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে ওই নথিতে তাদের স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এরপর আদালত মো. রফিকের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে এর আগে আসামি মো. সেলিম কিভাবে জামিন পেলো এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও নির্দেশ দেন আদালত।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফজলুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওই জাল নথিতে আসামি মো. সেলিমের আইনজীবী হিসেবে মো. মাহবুবুর রহমান খানের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু এ নামে সুপ্রিম কোর্টে কোনও আইনজীবীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।’   

তিনি আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে এর আগেও জালিয়াত চক্র সক্রিয় ছিল। এখনও আছে। তারা সেকশন থেকে আদালতের আদেশের নথি ব্যবহার করে এবং নথি জালিয়াতি করে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি আদালতের কাছে নির্দেশনা চেয়েছি।’