এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে মামলাটিতে আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই আসামির বিরুদ্ধে কোন ধারায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি চাকরি করেছেন, সে কারণেই এই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।’
আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার কোনও সাক্ষীও বলেনেনি যে আসামি (জিয়াউল ইসলাম মুন্না) এই টাকা আত্মাসাৎ করেছেন। মাননীয় আদালতে এই যুক্তি উপস্থাপন যদি না করি, শুধু আসামি যদি বলেন যে তিনি নির্দোষ, তাহলেও আমরা ৩৪২ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছি, তাতে আসামি খালাস পাবেন।’
আইনজীবী আরও বলেন, ‘এই চ্যারিটেবল ট্রাস্ট তো আমরা গঠন করিনি। এটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত ট্রাস্ট, এটি কোনও সরকারি ট্রাস্টও নয়। দুর্নীতি দমন আইন একটি স্বাধীন আইন। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে, এই আইনটিও এখন পরাধীন।’ তিনি আদালতকে আরও বলেন, ‘আপনি আদালতে থাকলে সরকারি কাজ করেন। কিন্তু আদালতের বাইরে তো আপনি ব্যাক্তিগত কাজও করতে পারেন। আমার বিশ্বাস, আপনি ন্যায়বিচার করবেন।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে হাজির হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়ার মাধ্যমে তিনি আদালতে হাজিরা দেন।
খালেদা জিয়া ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাবেক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করা হয়। এই মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ মামলার অভিযোগ গঠন করেন। আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো আদালতে এই মামলার যুক্তি উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।