দুদক কার্যালয় এখন তদবিরবাজমুক্ত: চেয়ারম্যান

দুদকের কর্মশালায় উপস্থিত দুদক চেয়ারম্যানসহ অন্যরাদুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়টি এখন সম্পূর্ণ তদবিরবাজমুক্ত বলে জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এই অর্জনকে ধরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুদক কার্যালয়ে চার জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান এ কথা বলেন। ‘কমিশনের দায়েরকৃত মামলার সফল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ময়মনসিংহ, ঢাকা-২, টাঙ্গাইল ও ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা এতে অংশ নেন।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের অনেক সমালোচনা রয়েছে— এ বিষয়টি স্বীকার করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক ভালো কাজও করছে। আর যাই হোক, কমিশনের প্রধান কার্যালয়টি এখন সম্পূর্ণভাবে তদবিরবাজমুক্ত হয়েছে। এখন আর ফ্লোরে ফ্লোরে তদবিরবাজদের দেখা যায় না। এমনকি অন্যভাবেও কেউ দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার অনৈতিক তদবির করতে আসেন না। কারণ তারা জেনে গেছেন, এখানে তদবির করে কোনও লাভ হবে না। ভুয়া নোটিশ পাঠিয়ে কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানির অভিযোগও এখন আর শোনা যায় না। এটা আমাদের অর্জন। এই অর্জন, এই আস্থা ধরে রাখতে হবে।’
কর্মশালায় অংশ নেওয়া আইনজীবীদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আইনজীবীরা নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও অধিকার সংরক্ষণে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা পেশাগত পবিত্রতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নির্মোহভাবে কমিশনের মামলা পরিচালনা করবেন।’
দুদকের দায়ের করা মামলায় শতভাগ সাজার প্রত্যাশা করে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রসিকিউটর হিসেবে আপনারা বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের অংশ হিসেবে আলামত, সাক্ষী উপস্থাপনসহ যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে মামলার দালিলিক নির্যাস উপস্থাপন করবেন। আপনাদের সবার সমন্বিত চেষ্টার ফলেই কমিশনের মামলায় সাজার হার ৩৭ শতাংশ থেকে এ বছর প্রায় ৭০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে আমরা সবাই কমিশনের মামলায় শতভাগ সাজা প্রত্যাশা করতেই পারি। কারণ কমিশন মামলার প্রযোজনীয় ও প্রমাণযোগ্য দালিলিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়ে থাকে।’
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দুদকের মহাপরিচালক (আইন) মো. মঈদুল ইসলাম। আরও বক্তব্য রাখেন পরিচালক (প্রসিকিউশন) শেখ ফারুক হোসেন, উপ-পরিচালক (প্রসিকিউশন) মো. মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ।