‘আইন যত বেশি অস্পষ্ট, তত বেশি হয়রানি’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের গোলটেবিলডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অস্পষ্টতার কারণে এই আইনে বেশি হয়রানি করা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। শনিবার ( ৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে  আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন বক্তারা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। আলোচনায় তিনি এই আইনকে নতুন বোতলে পুরনো বিষ উল্লেখ করে বলেন, ‘এবার আইসিটি অ্যাক্টের জায়গায় এসেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এটা করতে গিয়ে একটা তৃতীয় শ্রেণির ভাঁওতাবাজি করেছে সরকার। শিশুকে বুঝ দেবার মতো করে ৫৭ ধারা বাদ দিয়েছে তারা,যেন সেটা দেখেই সবাই খুশি হয়ে যাবে। অবিশ্বাস্যভাবে দেখি, আইনমন্ত্রী এই ধারা বাদ দিয়ে সবার কথা রাখার দাবি করছেন! অথচ আমরা অনুমোদিত খসড়াতে দেখছি, দুই-একটা ক্ষেত্রে সাজার পরিমাণ সামান্য এদিক-সেদিক করে ৫৭ ধারার সবকিছু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে ২৫,২৮,২৯ আর ৩২ ধারায়। এতে সরকারের দারুণ মজা হয়েছে। এখন কেউ মুখস্থ ৫৭ ধারার কথা বলতে পারবে না। ‘পুরনো বিষটা’ রয়েই গেছে,যদিও বোতলটা নতুন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা অনেকেই একটা বিষয় জানি না। আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারা যখন করা হয়, তখন এই আইনের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হয়েছিল। তখন সরকারের পক্ষ থেকে ৫৭ ধারা আর থাকবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, বিধায় এ নিয়ে আর কোনোকিছু আগায় নাই। এ পর্যন্ত ৫৭ ধারার অনেক অপপ্রয়োগ হয়েছে, আমরা সবাই দেখেছি। ৫৭ ধারাতে যা শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়রানি হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ৫৭ ধারার নামে অমানবিক আচরণ এবং নির্যাতন করা হয়েছে। যে আইন যত বেশি অস্পষ্ট সে আইনে তত বেশি হয়রানি করা সম্ভব। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করাই হয়েছে সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আমলাদের দুর্নীতি, অনাচার, স্বজনপ্রীতি যেন প্রকাশ করতে না পারে, তার জন্য এই আইন।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘এই আইন পাস করে দেশকে বার্মিজ মডেলে পরিণত করা হবে। বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করে দেশে কোনও আইন পাস করা যাবে না। এরকম আইন পাস করলে দেশে ‘কাউয়া’ গণতন্ত্র হয়ে যাবে।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘এই আইন পাস হলে বাকশালকে ছাড়িয়ে যাবে। এটাকে অনেকে কালা আইন বলেন, এটা শুধু কালা না কুচকচা কালা আইন। আমি আশা করি, এ ধরনের আইন পাস না করে শেখ হাসিনা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবেন।’