দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার জানান, চিঠিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান টিমের সুপারিশ পর্যালোচনাক্রমে এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বিগত ১৫ বছরের অবলোপনকৃত ঋণের তালিকা পর্যালোচনা করে প্রত্যেক ব্যাংকের ৫টি অবলোপনকৃত ঋণের অবলোপন প্রক্রিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন এসব সুপারিশ করেছে। সেগুলো হলো-
১. ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) সার্কুলারের ০২/২০০৩ নির্দেশ মোতাবেক অবলোপনকৃত ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সব পরিচালককে খেলাপি হিসেবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
২. মামলা ছাড়া কোনও ঋণ অবলোপন না করা;
৩. ঋণ অবলোপনের পূর্বে অবশ্যই এর কারণ সুনির্দিষ্ট করা;
৪. ব্যবসায়ী ঋণের ফান্ড অন্যত্র হস্তান্তর করেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা;
৫. ঋণ সুপারিশ থেকে অবলোপন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের কোনও ত্রুটি/অনিয়ম আছে কিনা তা উল্লেখ করা;
৬. বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় ঋণ আদায়ের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ;
৭. ঋণ অবলোপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বোর্ডের অনুমোদনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার একটি বিধান প্রবর্তন করা;
৮. ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আগের বছর পর্যন্ত লভ্যাংশ থেকে ১০০ শতাংশ রাখার নিয়ম থাকলেও কোনও কোনও ব্যাংক চলতি বছরের লভ্যাংশ থেকে সমন্বয় করে থাকে যা বন্ধ করা;
৯. ঋণ অবলোপনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধান মোতাবেক অর্থ ঋণের মামলা করতে হয়। অর্থ ঋণের মামলায় রায় পাওয়ার পর ব্যাংক Execution case করে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ২টি মামলা করতে হয়। কিন্তু অনেক ব্যাংক মূল মামলা করার সঙ্গে সঙ্গেই ঋণ অবলোপন করে ফেলে। এক্ষেত্রে, Execution মামলার পর ঋণ অবলোপনের বিষয়টি বিবেচনা করার বিধান তৈরি করা;
১০. প্রচলিত নিয়মে অনেক ক্ষেত্রে মামলা ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ঋণ অবলোপন করা যায়। এক্ষেত্রে মামলা ছাড়া কিছুতেই কোনও ঋণ যেন অবলোপন করা না যায় সেরকম বিধান প্রণয়ন।