২০০৬ সালে দায়ের করা একটি মামলা এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের একজন যুগ্ম জেলা জজকে তলব করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট মামলার নথি নিয়ে তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের করা আপিলের শুনানিকালে আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি আপিলের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।
বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মঈনুল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আবদুর রহিম। অন্যপক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল উল আলম।
এর আগে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি করা ১২ মাসের বিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে ম্যাকস পেপার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিম্ন আদালতে মামলা করে। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু নিম্ন আদালত ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ওই আবেদন খারিজ করে দেন।
এরপর ওই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৮ সালের ৪ জুলাই হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে প্রতিমাসে ১৭ লাখ টাকা করে বকেয়া ও সাড়ে সাত লাখ টাকা করে নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধ করতে বলা হয়। পাশাপাশি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়। কোনও ধরনের বিলম্ব ছাড়া ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর নিম্ন আদালতে ওই মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিভ টু আপিল করে, যা ২০০৯ সালের ২৩ জুলাই মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। পরে নিয়মিত আপিল করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ, বুধবার যা শুনানির জন্য আদালতে ওঠে।
পরে আইনজীবী মো. আবদুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি করা বিল অবৈধ ঘোষণা চেয়ে করা মামলাটি ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে যুগ্ম জেলা জজকে (অতিরিক্ত আদালত, নারায়ণগঞ্জ) নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। শুনানিকালে এ বিষয়টি আদালতের নজরে এলে এই মামলার নথিসহ ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই বিচারককে আদালতে উপস্থিত হতে বলেছেন।