সড়ক-নৌ পরিবহনে তল্লাশি, বাদ নেই ‘সন্দেহজনক’ বাড়ি বা হোটেল

রাজধানীতে আসা যাত্রীদের তল্লাশি করছে পুলিশ

সড়ক ও নৌপথে রাজধানীতে আসা সব ধরনের পরিবহনে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছেন পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর পাশাপাশি ‘সন্দেহজনক’ বাসাবাড়ি ও আবাসিক হোটেলেও তল্লাশি চলছে। গতিবিধি সন্দেহজনক হলে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সঙ্গে আটকও হচ্ছে। বিএনপির অভিযোগ, যাদের আটক করা হচ্ছে তাদের প্রায় সবাই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের ভাষ্য, গণ-গ্রেফতার হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায় হবে। এ রায়কে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কায় গত এক সপ্তাহ ধরে সারাদেশে ব্যাপক ধর-পাকড় চালিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। নৌ, রেল ও সড়কপথের যাত্রীদের বন্দর, টার্মিনাল ও স্টেশনে নেমেই পড়তে হচ্ছে র‌্যাব ও পুলিশের তল্লাশির মুখে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মহানগর, নগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতেও অভিযান চলছে বলে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাত্রীদের তল্লাশি করছে, সন্দেহভাজনদের জেরা করছে। গাবতলী, আমিনবাজার ব্রিজ, টঙ্গী, যাত্রাবাড়ী ও বাবুবাজার ব্রিজে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। যাত্রীদের কাছে নাম-ঠিকানা, পেশা, ঢাকায় কেন আসা বা কোথায় যাওয়া হচ্ছে –এসব তথ্য জানতে চাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগও তল্লাশি করা হচ্ছে।

রাজধানীতে পুলিশের তল্লাশি

রাজধানীর সন্দেহজনক বাসাবাড়ি ও আবাসিক হোটেলেও তল্লাশি করছে র‌্যাব-পুলিশ। আবাসিক হোটেলগুলোতে থাকা বর্ডারদের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে রাখছে সংশ্লিষ্ট থানা। অনেক হোটেলে বর্ডার তুলতেও নিষেধ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার বিকালে সরেজমিনে গাবতলীতে গিয়ে দেখা গেছে, চেকপোস্টে বাস থামিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। এরপর হেমায়েতপুর থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের কাছে পরিচয় জানতে চায় পুলিশ। তাদের কাগজপত্র দেখতে চান পুলিশের সদস্যরা। মোটরসাইকেল আরোহী দু’জন তাদের পরিচয় দিয়ে গাড়ির কাগজপত্র দেন। এরপর তারা কোথায় যাচ্ছেন, তা জানতে চাওয়া হলে আরোহী দু’জন জানান, হেমায়েতপুর থেকে তারা পুরান ঢাকায় যাচ্ছেন, দোকানের জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য। পুলিশ তাদের কথা শুনে ছেড়ে দেয়। এভাবেই গাড়ি তল্লাশি করায় অনেক যাত্রী সহযোগিতা করলেও কেউ কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তল্লাশির কারণে কিছু কিছু রাস্তায় যানজট হয়েছে।

যাত্রী তল্লাশি করছে পুলিশ

কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটেও তল্লাশি করতে দেখা গেছে পুলিশকে। ট্রেন ও লঞ্চ থেকে নেমে আসা যাত্রীদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রেনে কোনও যাত্রীকে দাঁড়িয়ে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কাউকে টিকিট ছাড়া গতকাল থেকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। রেল পুলিশ ও আনসার সদস্যরা টিকিট ছাড়া যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দাবি করা হয়েছে, গত সাত দিনে তাদের ১১শ’র বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অনেকের খোঁজ মিলছে না। বিনা অফরাধে তাদের আটক করা হচ্ছে বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তারা একে ‘গণগ্রেফতার’ বলে দাবি করেছেন।

টহলে পুলিশ

তবে পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বুধবার বিকালে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত বছর বা সারা বছরে গড়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ গ্রেফতার হয়, গত সাত দিনে তার চেয়ে ৫৯ জন বেশি গ্রেফতার হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত তদন্তাধীন মামলা, বিচারাধীন মামলার আসামি ও সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করছি। গণ-গ্রেফতার হচ্ছে না। গ্রেফতার করা বাংলাদেশ পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী অল্প সংখ্যক আসামি গ্রেফতার করা হচ্ছে।’