দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হওয়ার পর বিএনপি ক্ষুব্ধ অবস্থানে থাকলেও অত্যন্ত সংযত ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে সহিংসতার মধ্যে ঠেলে দিতে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছে।’
শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায় ও বেআইনিভাবে সাজা প্রদান’ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সম্মেলনটির আয়োজন করে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
জয়নুল আবেদীন নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ এবং চেয়ারপারসনের নির্দেশে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরপরও নেতাকর্মীদের ওপর যে নিপীড়ন, নির্যাতন ও গণ গ্রেফতার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ এসময় তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে অন্যায় ও বে-আইনিভাবে সাজা দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
‘দেশবাসীর মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে এর মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে এবং সরকারের নির্দেশে পুলিশ প্রশাসন ঢাকা শহরের সভা সমাবেশ, মিছিল-মিটিং বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। এর মাধ্যমে মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার তারা খর্ব করেছে’ বলেও মন্তব্য করেন জয়নুল আবেদীন।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং সম্পাদক ৮ ফ্রেরুয়ারি সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বকশি বাজারের বিশেষ আদালতে উপস্থিত থাকার পরও (আদালতে সিসিটিভিতে প্রতীয়মান) তাদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এই যাবৎকালে এই ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন এবং অসম্মানজনক। যা সর্বোচ্চ আদালতের মানকে ক্ষুণ্ন করেছে।’
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার মহাসচিব ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলসহ প্রমুখ।