ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রদের ৩ জন বার্ন ইউনিটে

অগ্নিদগ্ধ


রাজধানীর বংশালে আলুবাজার বড় মসজিদ হাজী ওসমান গণি রোড এলাকায় শনিবার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়া মাদ্রাসার তিন ছাত্র সালমান (৮), আশিক (৭) ও  জাভেদ (৭) এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বাকি তিনজন মুস্তাকিন (৮), আব্দুর রহমান (৯) ও সাজ্জাদকে(৭) প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে একদিন পর আজ রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  আহতরা প্রত্যেকেই বংশাল এলাকার মোহাম্মদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাভেদ। মাদ্রাসার নাজারা শ্রেনির ছাত্র জাভেদের মুখের ১৪ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার মুখের পুরো চামড়াটাই উঠে গেছে।  কিন্তু, ঢামেকে বেড সংকুলান না হওয়ায় তা ঠাঁই মিলেছে মেঝের পাটিতে।

বার্ন ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে,  দগ্ধ জাভেদের পাশে শুয়ে আছেন তার বাবা আরশাদ।  তিনি বলেন, ছেলের অবস্থা তো দেখছেনই। এখন আর কিছু করার নাই। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওর চোখের কোনও ক্ষতি হয়নি। আর ছেলেকে চোখের কথা জিগাইলে কয়  সে দেখতে পায় ।’
আজ রবিবার দুপুরে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ঢামেক হাসপাতালে আসেন মাদ্রাসার দুই শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ুম ও মো. আতাউল্লাহ। এসময় তারা বলেন, আমাদের মাদ্রাসায় ছাত্ররা থাকা, খাওয়া ও পড়ার সুযোগ পায়। যারা আহত হয়েছে তাদের সবার চিকিৎসা খরচ পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি হাজী মো. ইয়াকুব দিচ্ছেন। ছাত্রদের মা-বাবাকে কোনও টাকা পয়সা দিতে হবে না।

এর আগে বাংলা ট্রিবিউনকে মোহাম্মদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সকালে মাদ্রাসার ক্লাস শুরু হতে দেরি হওয়ায় মাদ্রাসার নিচে ঘোরাফেরা করছিল কয়েকজন ছাত্র। এ সময় মাদ্রাসার পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ৬ ছাত্র দগ্ধ হয়। 
মাদ্রাসার শিক্ষক মো আতাউল্লাহ বলেন, আমাদের ছাত্ররা ঘরের মধ্যে ছিল। বাইরে ২ হাত দূরে ট্রান্সফরমার ছিল। ওটা ব্লাস্ট হয়ে তেলটা ওদের গায়ে পড়েছে। সেই তেলেই আমাদের ছাত্ররা দগ্ধ হয়েছে। 
তিনি বলেন, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে লিখিত চিঠি দিয়ে ট্রান্সফরমারটি দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল বলেন, জাভেদের শরীরের ১৪ শতাংশ এবং বাকিদের ছয় শতাংশ ও চার শতাংশ পুড়ে গেছে। এদের তিনজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছিল। রাতে ও সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।