গ্রাম পুলিশের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে হাইকোর্টের রুল

 

 




সুপ্রিম কোর্টআইন অনুসারে চাকরির সব সুবিধাসহ ৭০ জন গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের নিস্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।








চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ৩৪ বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক রিট আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
একইসঙ্গে গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয় বেতন কাঠামো অনুসারে চতুর্থ শ্রেণির স্কেলের সমমর্যাদা কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. নওশের আলী মোল্লা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।



নওশের আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এর আগে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ৫৫ জন গ্রাম পুলিশের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে রুল জারি করেছিলেন আদালত। এর ধারাবাহিকতায় রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, জয়পুরহাট ও গাইবন্ধাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার আরও ৭০ জন গ্রাম পুলিশ ও দফাদার রিট আবেদন করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন।’

৭০ জন গ্রাম পুলিশের পক্ষে রাজশাহীর পবা উপজেলার সুইসাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ মো. আব্দুল বারী রিট অবেদনটি করেন।

দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহলদার হিসেবে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশের সদস্যদের পক্ষ থেকে সরকারকে একটি উকিল নোটিস পাঠানোর পর তার জবাব না পেয়ে গত বছরের ২৭ নভেম্বর ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ীর হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ লাল মিয়াসহ ৫৫ জন গ্রাম পুলিশ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। পরে ৩ ডিসেম্বর সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করা হয়।

দফাদার ও মহলদার মিলে সারাদেশে গ্রাম পুলিশের সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার। এদের মধ্যে দফাদারদের মাসিক বেতন তিন হাজার ৪০০ টাকা। আর মহলদারদের বেতন মাসিক তিন হাজার টাকা।

গ্রাম পুলিশের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় এই বেতনের অর্ধেক দেওয়া হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। আর বাকিটা যায় সরকারের কোষাগার থেকে।

ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করে। কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনও শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি।

এদিকে, ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।