স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনু হত্যায় পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সুপ্রিম কোর্টরাজধানীর মিরপুরে ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন মনু ওরফে মনু হাজী হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতসহ পাঁচ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

শাহাদাত ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা অন্য আসামিরা হলো— মো. মিন্টু, মাসুদুর রহমান ওরফে তোতা ওরফে তোতলা মাসুদ, লিটন হোসেন ওরফে লোটাস ওরফে নুরুজ্জামান ও মো. নোমান ইবনে বাসার ওরফে বাবু ওরফে টিভিএস বাবু। তবে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মাহমুদুর রহমান ওরফে সোহেল ও মো. হাসান সারোয়ার ওরফে মো. জিকুর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এ মামলার নারী আসামি জাহানারার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। এই মামলায় সোহেল, জিকু, লিটন ও টিভিএস বাবু কারাগারে আছেন।  বাকিরা এখনও পলাতক।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শ. ম রেজাউল করিম ও অ্যাডভোকেট সরোয়ার হোসেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ মিরপুরে ১২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন মনু ওরফে মনু হাজী হত্যা মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতসহ সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে এক নারী আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ রায় দেন।

নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলো— মো. মিন্টু, মাসুদুর রহমান ওরফে তোতা ওরফে তোতলা মাসুদ, মাহমুদুর রহমান ওরফে সোহেল, লিটন হোসেন ওরফে লোটাস ওরফে নুরুজ্জামান, মো. নোমান ইবনে বাসার ওরফে বাবু ওরফে টিভিএস বাবু, মো. হাসান সারোয়ার ওরফে মো. জিকু। এছাড়া, এ মামলার আসামি জাহানারাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডের অতিরিক্ত তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও একবছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা। অন্যদিকে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এরপর আসামিদের করা আপিল ও ডেথরেফান্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত,২০০৬ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুরের ৪৯/৩ শাহ আলী বাগের বাসার সামনে মিলাদ মাহফিলের তবারক বিতরণ শেষে বসে থাকা অবস্থায় মনির উদ্দিন মনুকে অস্ত্রধারী আসামিরা পরপর আট রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

শাহাদাত বাহিনী ব্যবসায়ী মনুর কাছে এককোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। তা না পেয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে উল্লেখ করে ওইদিনই নিহতের ভাই মো. আকবর আলী রাজধানীর মিরপুর থানায় এ মামলাটি করেন।