জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া ও রোকাইয়ার পরবর্তী অস্ত্রোপচার তিন মাস পর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম ধাপের অপারেশন বুধবার সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী অপারেশন আবার তিন মাস পর করা হবে। তাদের জন্য যে দু’জন চিকিৎসক দেশের বাইরে থেকে এসেছিলেন তারাও এখন চলে যাবেন। তারা তিন মাস পর আবার আসবেন। তখন পরবর্তী অপারেশন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের মাথার রক্তনালি একটা। সেটাকে বন্ধ রেখে পাশ দিয়ে রক্তনালি চালু করে দেখা হয়েছে- সেগুলো সচল থাকছে কিনা। সে ব্যাপারে সাফল্য পাওয়া গেছে।’
বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমসি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।
এ অপারেশনের ব্যাপারে হাঙ্গেরি থেকে আসা দু’জন সার্জারি বিশেষজ্ঞ এন্ডোভাস্কুলার সার্জন ডা. স্টিফেন হুদক ও নিউরো সার্জন ইন্ড্রুস সোদেক বলেছেন, ‘এটা খুবই জটিল অপারেশন এবং এই অপারেশনে হাই রিস্ক রয়েছে।’
এ ব্যাপারে ডিএমসি পরিচালক বলেন, ‘এই শিশুদের ব্যাপারে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। ওদের মা যদি চায় হাসপাতালে থাকতে তাহলে আমরা এখানেই রাখব। তা না হলে তারা বাড়ি ফিরে যেতে পারবে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য আবার আসবে।’
রাবেয়া-রোকাইয়ার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েদের এমআরআই করার জন্য পপুলার হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখানে এমআরআই করা হয়েছে।’
এই জোড়া মাথার শিশুদের প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘রাবেয়া-রোকাইয়া এখন ভাল আছে। আজ ওদের অবস্থা জানার জন্য এমআরআই করা হচ্ছে। ওদের চিকিৎসার জন্য যে দু’জন বিদেশি চিকিৎসক এসেছিলেন তারা শুক্রবার দেশে ফিরে যাচ্ছেন। এই শিশুদেরও ২-৩ দিন পর আমরা ছেড়ে দেবো। ওরা বাড়ি চলে যাবে। পরে তিন মাস পর আবারও এলে তখন ওদের পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে এমআরআই না করে পপুলার হাসপাতালে করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দু’টি শিশুকে একসঙ্গে এমআরআই করানোর জন্য তাদের পপুলার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দুই বিদেশি ডাক্তারের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘জোড়া শিশুর এ ধরণের অপারেশনের জন্য এই দু’জন বিশেষজ্ঞ সার্জন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন। তবে তাদের কাছেও মাথা জোড়া লাগানো এমন শিশুর অপারেশন বিরল ঘটনা। তারা এর আগে কখনও এমন অপারেশন করেননি। তারা আগামীকাল (শুক্রবার) সকালে নিজ দেশের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সঙ্গে করে শিশুদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিডি নিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে তারা আবারও অপারেশন টিমে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে আসবেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রোকাইয়াকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ২০ সদস্যের একটি টিম গঠিত হয় শিশুদের চিকিৎসা পরিচালনার জন্য। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে আনা হয় তাদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের মাথায় এনজিওগ্রাম করা হয়। এনজিওগ্রাম করার পর এক সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, প্রথমে তাদের মাথার রক্তনালি আলাদা করা হবে। এরপর তাদের ধীরে ধীরে মাথা আলাদা করা হবে। পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুণ্ডু গ্রামে জন্ম নেওয়া রাবেয়া-রোকাইয়ার বয়স এখন একবছর সাত মাস। তাদের বাবার নাম রফিকুল ইসলাম, মায়ের নাম তাসলিমা আক্তার। এই জোড়া শিশুর চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।