৭ মার্চের ভাষণে বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন: শিক্ষামন্ত্রী





প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদবঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যে বাঙালির জাতির হাজার বছরের আকাঙ্খা ও স্বপ্ন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তেন একটি বই প্রকাশনার অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য তিনি।







‘৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ: বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’ নামের বইটির লেখক ড. হারুন অর রশিদ।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দিয়েছেন তাতে বাঙালির হাজার বছরের যে আকাঙ্খা ও স্বপ্ন ছিল তা ধারণ করেছেন। তিনি ওই সময় আইনগতভাবে ছিলেন জনগণের প্রতিনিধি। ওই সময় সরাসরি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে পুরো বিশ্বের সমর্থন হারাতেন। বিষয়টি তাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে নিতে হয়েছে। তার প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন ছিল। ওই সময় কী হচ্ছিল, অতীতে কী হয়েছিল, সামনে কী হবে— সবগুলো বিষয় তিনি ধারণ করে নিয়ে আসেন তার বক্তৃতায়। মানুষ সে বক্তৃতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, “বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ঘোষণার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও জনসাধারণ একদিকে স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য একধরনের চাপ সৃষ্টি করেছেন, অন্যদিকে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করলে পাকিস্তানি সেনা-শাসকদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে দমন পীড়ন চালিয়ে যাবে, সে বিষয়েও অবহিত ছিলেন। এর একমাস আগেই তিনি নিউজউইকের এক সাংবাদিককে অফ দ্য রেকর্ডে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে যেভাবে দেখা হয়, সেখানে আর ফেরার উপায় নেই’।”
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন দোতলায় উঠছেন, আমরা গিয়েছিলাম। একজন তাকে বললেন, “জনগণ কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়া মানবে না।” তিনি তাকে বলেন, “তুমি তোমার কাজ করো। আমি তাদের নেতা, আমি তাদের পরিচালিত করবো, তারা আমাকে নয়।” আব্রাহাম লিংকন, মার্টিন লুথার কিং বা জন এফ কেনেডির মতো নেতার ভাষণ বিশ্বখ্যাত, কিন্তু সবগুলো লিখিত ভাষণ। বঙ্গবন্ধু তার চশমাটা সেদিন ডায়াসের ওপর রেখে ১৮ মিনিটের ভাষণ দিয়েছিলেন, পুরোটাই অলিখিত।”
প্রকাশনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, শামসুজ্জামান খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ড. হারুন অর রশিদ প্রমুখ।