ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলমান যাদুঘরের উদ্যোগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংঘটিত গণহত্যার স্থানগুলোর সঙ্গে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচিতি করানো হয়েছে।
শুক্রবার (২ মার্চ) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ‘চলমান যাদুঘর: ৭১-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জেনোসাইড’ বিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখানো হয়। এর আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করা এই চলমান যাদুঘরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মের কাছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত নির্মম গণহত্যার (জেনোসাইড) সঙ্গে পরিচিত করা এবং গণহত্যার ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানো।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যে স্থানগুলোতে হত্যাকাণ্ড চালায় পাকিস্তানি বাহিনী, সেসব স্থান শিক্ষার্থীদের দেখানো হয়। প্রথমে কলাভবন প্রাঙ্গনে অবস্থিত ঐতিহাসিক বটতলায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের উপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেন সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত।পরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি ভিসি চত্বরে অবস্থিত 'স্মৃতি চিরন্তন’, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), মধুর ক্যান্টিনসহ মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংযোগ থাকা ঘুরে দেখান।
ঐতিহাসিক বটতলার ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘এই বটতলা থেকে শুরু হয় ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। এখানে স্বর্ণালী মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ রঙের নতুন পতাকার নকশা করা হয় এবং তা উত্তোলন করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে এই বট গাছটিও রেহাই পায়নি। পরে এখন যে বটগাছটি আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটি ১৯৭২ সালে এডওয়ার্ড কেনেডি রোপণ করেন।’
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ঘুরে দেখানোর সময় তিনি বলেন, ‘শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আগের নাম ছিল ইকবাল হল। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ এই হলের নাম করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামে। ২৫ মার্চ রাতে ছাত্রলীগের নেতা চিশতী হেলালুর রহমানসহ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়।’
জগন্নাথ হলে গিয়ে অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ সকালে এ ছাত্রাবাসে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে অনেককে হত্যা করে।