রাজনৈতিক অপশক্তি জঙ্গি হামলায় সক্রিয়: ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ব্যাহত করার জন্য রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো জঙ্গি হামলায় সক্রিয় আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। 

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদে সোমবার (৫ মার্চ) সকালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

চারুকলা অনুষদের মানববন্ধনমানববন্ধনে শিক্ষকরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, ‘২০১৮ সালের জঙ্গি তৎপরতা এবং এর আগের জঙ্গি তৎপরতার মধ্যে অবশ্যই একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। এখানে রাজনৈতিক অপশক্তিগুলো সাধারণত এই গণতান্ত্রিক ধারাকে নানাভাবে ব্যাহত করার জন্য জঙ্গি হামলায় সক্রিয়। একটি বিষয় তো স্পষ্ট দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিদের প্রভাব ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের বছরকে কেন্দ্র করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। নানা ধরনের অপশক্তি এ বছর কাজ করবে। এই কারণগুলো মাথায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জঙ্গি এমন একটি বিষয়, একজন জঙ্গি কখনও আরেক জঙ্গির কথা স্বীকার করে না। সে নিজেকে আত্মবিসর্জন দিতে পারে  কিন্তু অন্য জঙ্গির কথা কখনও স্বীকার করে না। এটা জঙ্গিদের একটি বৈশিষ্ট্য। আমরা অধ্যাপক জাফর ইকবালের আরোগ্য কামনা করছি। সরকারের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানাই—তারা অধ্যাপক জাফর ইকবালের পাশে থেকে তাকে সাহায্য করেছেন।’ 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এদেশের মানুষ একদিকে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অন্যদিকে আরেকটি গোষ্ঠী আছে, যারা মুক্তিযুদ্ধকে মানে না। এদেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে তারা ব্যাহত করতে চায়। সৃজনশীলতাকে ব্যাহত করতে চায়। বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের চেতনাকে নষ্ট করে দিতে চায়। তাদেরকে শক্তহাতে দমন করতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে।’ 

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনআইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে যারা লিখছেন, সৃজনশীলতার পক্ষে যারা লিখছেন, তাদের কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং ক্যাম্পাসে কীভাবে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব, সে বিষয়ে সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে বসুন।’ 

জঙ্গিবাদের সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের যে-ই যুক্ত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।’ 

অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বলেন, ‘যখন দেশ এগিয়ে যায়, তখনই মৌলবাদী শক্তি এদেশের মুক্তবুদ্ধি, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষের ওপর আঘাত হানে। আমাদের দুঃখ যে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না, তাদেরই বিভিন্নভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ফলে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মুক্তমনের মানুষদের ওপর আঘাত হানার সাহস দেখিয়েছে।’ 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাকসুদ কামালের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদা, অপরাধবিজ্ঞান অনুষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান প্রমুখ।

এদিকে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে চারুকলা অনুষদ, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংস্থা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ।