র্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সোলায়মান মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন,সুমি হত্যার পর থেকে সোহেল পলাতক ছিল। র্যাবের অভিযানে সে গ্রেফতার হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কথাও স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১২ নম্বরের ডি ব্লকের ২৯/১২ রোডের ২৫ নম্বর বাসার চারতলা থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী সোহেলে পলাতক ছিল। এই ঘটনায় সুমির বাবা আব্দুস ছোবহান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন।
থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও মামলাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার প্রায় ১২ দিন পর সোহেলকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করলো র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, তিন বছর আগে সুমি ও সোহেলের বিয়ে হয়। তাদের দু’জনেরই বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ ও ঝগড়া শুরু হয়। গত এক বছরে দাম্পত্য কলহের মাত্রা বেড়ে যায়। সুমিকে মারধরও করতো সোহেল। পরে দুই মাস আগে ঢাকায় সুমির বড় বোন রিনার বাসায় নিয়ে আসে তার পরিবার। এরপর সোহেলও ঢাকায় চলে আসে। সুমির বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে রিনার বাসায় তারা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমির বাবা ওই বাসায় রাতের খাবার খেতে গিয়ে দেখেন তারা ঝগড়া করছে। তখন তিনি তাদের চুপ করতে বলেন। এরপর রাত ১১ টার দিকে তিনি চলে যান। এসময় সুমির বড়বোন রিনা ও তার স্বামী বাসায় ছিলেন না।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান,২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার পর সুমিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকাল ৭ টার দিকে সুমির মা বাসায় এসে দেখেন মেয়ে খাটের ওপর পড়ে আছে। ডাক দেওয়ার পরও সে সাড়া দিচ্ছে না। এরপর তিনি চিৎকার করলে পাশের কক্ষের তানিয়া বেগম নামে এক নারী ছুটে আসেন এবং বুঝতে পারেন সুমি মারা গেছেন। এরপর খবর পেয়ে সুমির স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুকুজ্জামান লাশ উদ্ধার করেন। সুমি-সোহেল দম্পতির আট মাসের একটি মেয়ে আছে।
ফারুকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর সোহেল পলাতক ছিল। তাকে র্যাব গ্রেফতার করেছে বলে শুনেছি।’