ফ্লাইওভার নির্মাণের মতো এ প্রকল্পেও ভোগান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল নগরবাসীর। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নানামুখী জনবান্ধব পদক্ষেপের কারণে নির্মাণকাজে দুর্ভোগ অনেক কমেছে। সম্প্রতি উত্তরা, মিরপুর ও আগারগাঁও ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
প্রকল্প সূত্র জানায়, জনদুর্ভোগ কমাতে রাস্তার দু’দিকে দুটি করে চারটি লেন খোলা রাখা হয়েছে। মাঝে মিডিয়ান ঘিরে কাজ চলছে। সড়কে যাতে ধুলাবালি না ওড়ে সে জন্য হার্ড ব্যারিয়ার (কংক্রিট ও লোহার বেড়া) স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত পানিও ছিটানো হচ্ছে। তাছাড়া মাটি খননের সময় যেসব মাটি ওঠে সেগুলো বক্সে তুলে উত্তরায় একটি ডাম্পিং সাইটে নিয়ে ফেলা হয়। দুর্ঘটনা এড়িয়ে নির্বিঘ্নে কাজ করতে নিরাপত্তার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘হার্ড ব্যারিয়ার’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উপরে দেওয়া হয়েছে কাঁটাতারের ব্যারিকেট। ফলে নির্মাণ কাজের ধুলাবালি বা নির্মাণ সামগ্রী নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাচ্ছে না। এই পদ্ধতি ব্যবহার করায় সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ভোগান্তি নেই বললেই চলে।
সরেজমিন আগারগাঁও এলাকায় দেখা গেছে, মিরপুর- ১২, ১১, ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা ও আগারগাঁওয়ের সড়কজুড়ে দিনরাত নির্মাণযজ্ঞ চলছে। আগারগাঁও এলাকায় প্রকল্পের পাইলিংয়ের জন্য বিশাল আকৃতির ক্রেন, এসকেভেটর বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছে প্রকল্পের শ্রমিকরা। এ জন্য প্রতি কিলোমিটারে আট-নয় জন করে শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। ধুলাবালি থেকে মুক্তি দিতে পানি ছিটানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তার পাশে স্থাপন করা হয়েছে প্রকল্পের অস্থায়ী অফিস।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের কোচ কেনার জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠান কাওয়াসাকি মিটসুবিসি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরাসরি বিষয়টির তদারকি করছেন।
প্রকল্প পরিচালক মো. আফতাবউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল আসতে সময় লাগবে মাত্র ৩৭ মিনিট। বিদ্যুৎচালিত এ ট্রেনের গতি হবে ঘণ্টায় গড়ে ৩২ কিলোমিটার। এ রুটে ৬টি করে বগির ১৪টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতিটিতে এক হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী পারাপার করতে পারবে। এর মধ্যে আসনে বসতে পারবে ৯৪২ জন এবং দাঁড়িয়ে থাকবে ৭৫৪ জন। প্রতি চার মিনিট পর ট্রেন ছেড়ে যাবে। এতে প্রতি ঘণ্টায় উভয় দিক থেকে ৩০ হাজার করে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। বর্তমান সময়ে ঢাকাবাসীর কাছে এটা অলীক স্বপ্ন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’
সরকার ২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এই এলাকায় ৯টি স্টেশন নির্মাণ হবে। তবে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো প্রকল্প এলাকায় স্টেশন থাকবে ১৬টি। এসব স্টেশনের জন্য নির্ধারিত স্থানে মাটির গভীরে ৪০ মিটার পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষার কাজ জোরেশোরে চলছে। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতাভুক্ত এ প্রকল্পের রোকেয়া সরণির পরিকল্পনা কমিশনের কাছ থেকে মিরপুর পর্যন্ত কাজ দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। ফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে নগরবাসী।
প্রকল্প হাতে নেওয়ার পর থেকে মাটি পরীক্ষা, ইউটিলিটি সার্ভিস স্থানান্তরসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রকল্পের কাজ।
প্রায় ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল প্রকল্পে থাকবে ১৬টি স্টেশন। ইতিমধ্যে এগুলোর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় ফেজ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত এ প্রকল্পের সম্পূর্ণ কাজ ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেট্রোরেল প্রকল্পে যে ১৬টি স্টেশন হবে সেগুলো হচ্ছে উত্তরা-উত্তর, উত্তরা-সেন্টার, উত্তরা-দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।
প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) আব্দুল বাকি মিয়া কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বিষয়ে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ রয়েছে। এ জন্য কোনও তথ্য দিতে পারছি না।’