বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান ও মো. রাশেদ খান।
সংবাদ সম্মেলনে হাসান আল মামুন বলেন, ‘গতকাল (১৪ মার্চ) আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে মিছিল নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দিকে রওনা দিয়েছিলাম। হাইকোর্টের সামনে গেলে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। তখন আমরা সেখানেই অবস্থান নিই।’
হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের সামনে থেকে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ওই সময় পুলিশ আমাদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, লাঠিচার্জ করে। তিন জনকে আটক করেও নিয়ে যায়। আমরা ৫০-৬০ জন তাদের ছাড়িয়ে আনতে রমনা থানায় গেলে পুলিশ সেখানে আমাদের কৌশলে আটক করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমাদের এক ফোঁটা পানিও দেওয়া হয়নি।’
ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাসী। তাই আমাদের আন্দোলনে কোনও ধরনের উসকানি ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাও ও দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল তাদের। সেই কর্মসূচি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়। এসময় আটক তিন জনকে পরে রাত ৯টার দিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।