রবিবার দুদকের আপিল দায়েরের পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সভাপতির কক্ষে তিনি এই অনুরোধ জানান।
দুদকের ওই আপিলের বিষয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই সাজা বাড়ানোর জন্য দুদক আর সরকার একাকার হয়ে গেছে। সেজন্য নাকি তারা আবার নতুন করে আপিল করেছে। দুদককে অনুরোধ করবো, আপনারা দুর্নীতি দমনের নামে রাজনীতিবিদদের কোনোভাবে দমন করার চেষ্টা করবেন না।’ এক-এগারোর সরকারের করা মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সাজা দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা (দুদক) এই সাজা নিয়ে রাজনীতি না করে যে আপিলটি দায়ের করেছেন প্রত্যাহার করে নেবেন। সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে আমি দুদককে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের উৎসাহে দুদক এই আপিলটি করেছে। দুদক তার নিজস্ব এখতিয়ারে এই আপিল করেছে বলে আমি মনে করি না। মনে হচ্ছে, সরকার এ বিষয়ে দুদককে চাপ দিচ্ছে। চাপ দিয়ে এই আপিল করিয়েছে।’
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘দেশের মানুষ অত্যন্ত বেদনার মধ্যে আছে। দেশের মানুষ ভালো নেই। মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। কথা বললেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়। শুধু মামলাই হয় না, সেই মামলায় তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি নির্দেশ আছে, অহেতুক কাউকে রিমান্ডে নেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি, দিনের পর দিন রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগের ওপর সরকার বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যেই একজন প্রধান বিচারপতিকে (সাবেক) জোর করে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে, তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়েছে। মানুষ মনে করে, এ দেশের কোথাও কোনও আদালতে বিচার না পেলেও এই আদালতে (সুপ্রিম কোর্টে) এলে তারা অন্তত বিচার পাবেন। কিন্তু সেই বিচার থেকে আজ তারা বারবার বঞ্চিত হচ্ছে।’ আইনজীবীরাও তাদের নিজেদের দায়িত্ব, মক্কেলদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছেন না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আদালতগুলো সরকার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আদালত ইচ্ছা করলেই নিরপেক্ষ বিচার জনগণকে দিতে পারছেন না।’
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার প্রসঙ্গ টেনে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘মাসদার হোসেন মামলায় যেভাবে গেজেট হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে তা হয়নি। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অর্থনৈতিক শক্তি না আসবে, যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথক সচিবালয় না হবে, ততদিন পর্যন্ত এ আদালত স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পর্কে জয়নুল আবেদীনের বক্তব্য হলো, সমস্ত বিচার বিশ্লেষণ করে আইনজীবীরা দেখেছেন, বিগত নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ কোথাও কোনও ভোট দিতে পারেনি। এখনও বাংলাদেশের মানুষ আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে সে নিয়ে সন্দিহান। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারাই আবার জিতে যাবে। তাদের কাছে নাকি জাদুর কাঠি আছে। সেজন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা ভোট দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন, যদি নিরপেক্ষভাবে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারে, তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যে ফল হয়েছে সেই ফলই সারা বাংলাদেশে হবে।