সোমবার (২৬ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘একই মামলায় সহযোগী অপরাধীদের ১০ বছর অথচ মূল আসামি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়ায় আমরা (দুদক) সংক্ষুব্ধ। এ কারণেই তার সাজা বাড়াতে আমরা আপিল করেছি। এখন নিয়ম অনুসারে আপিলটি শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) হাইকোর্টে মেনশন করবো। একইসঙ্গে আপিলটি শুনানির জন্য বুধবারের (২৮ মার্চ) কার্যতালিকায় রাখারও আবেদন জানাবো।’
এর আগে গত ২৫ মার্চ আপিল দায়েরের পর খুরশীদ আলম খান জানিয়েছিলেন, ‘মাত্র একটি যুক্তিতে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর জন্য দুদক আপিল করেছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া মূল আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার সাজা ছিল সহযোগী আসামিদের তুলনায় কম। তাই বিচারিক আদালতের রায়ে দুদক সংক্ষুব্ধ হয়ে তার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করেছে।’
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুদকের এই আপিলকে সরকারের হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে। বিএনপির আইনজীবীদের এমন ধারণার জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ‘অনেকে বলছেন সরকারের মদদে দুদক এ আবেদন (আপিল) করেছে। এটা মোটেও ঠিক না। যখন আপিল বিভাগে জামিনের শুনানি হয় তখন আমরা আদালতকে বলেছি— জাজমেন্টের (বিচারিক আদালতের রায়ের) এই সাজায় আমরা সন্তুষ্ট না। এটা অপর্যাপ্ত সাজা। তখন আদালত আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিল— আমরা কিছু করছি (সাজার বিরুদ্ধে দুদকের আপিল) কিনা। জবাবে আমরা আদালতকে বলেছিলাম, বিষয়টি দুদক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দুদক পুরো জাজমেন্ট ঘাটাঘাটি করবে। পরবর্তীতে দুদক সিদ্ধান্ত নেবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আপিলটি সম্পন্ন করি।’
বেশ কিছু বিবেচনায় বিচারিক আদালত মামলার সহযোগী আসামিদের তুলনায় খালেদা জিয়াকে কম সাজা দিয়েছেন। এ বিষয়ে খুরশীদ আলম খানের বক্তব্য ছিল, ‘আপিলের আবেদনে বিচারিক আদালতের সেই গ্রাউন্ডগুলোকেই চ্যালেঞ্জ (আপিল আবেদনে) করেছি। এসব গ্রাউন্ডে অপর্যাপ্ত সাজা দেওয়া যায় না। আইন এটা অনুমোদন করে না।’
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।