সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ সত্ত্বেও রাজধানীর হাতিরঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙতে একবছরের সময় চেয়ে করা আবেদনের বিষয়ে বুধবার (২৮ মার্চ) আপিল বিভাগের আদেশের দিন ধার্য হয়েছে। এ কারণে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) তিন নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
ফলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বুধবার বিজিএমইএ’র আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিজিএমইএ'র আবেদনের ওপর শুনানি শেষ করেন আপিল বিভাগ। শুনানিতে আদালত বিজিএমইএ'র ভবন ভাঙতে বারবার সময় না চাওয়ার শর্তে একটি মুচলেকা জমা দিতে নির্দেশ দেন এবং আজ আদেশের দিন ধার্য থাকলেও নট টু ডে (আজ আদেশ নয়) করে দেন।
আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।
তবে আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুসারে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ মুচলেকা প্রস্তুত করেছে কিনা, তা জানতে চেয়ে আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এর আগে গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএ’র ভবনটি ভাঙতে এর কর্তৃপক্ষকে সাত মাস সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সময় মঞ্জুর করে এক আদেশে বলেছিলেন, ‘এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেওয়া হবে না।’
কিন্তু এর পরেও বিজিএমইএ’র আরেক আবেদনের প্রেক্ষিতে ভবন ভাঙতে তাদেরকে পুনরায় ছয় মাস সময় দেন আপিল বিভাগ। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের ওই সময় মঞ্জুরের পর এ বছরের ২৫ মার্চ পুনরায় একবছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ। সেই আবেদনের বিষয়ে আগামীকাল বুধবার আদালত আদেশ দেবেন।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়। ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবন একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচা আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা (রাজউক)।