গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেডের ৩ নাম্বার সড়কের একটি বাসা থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভের ভাই মো. নোবেল জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফ্যানের সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সৌরভ। পরে উদ্ধার করে রাত পৌনে ১টার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহরিয়ার সৌরভ আনন্দ পুলিশ হাউজিং সোসাইটির মার্কেটিং এ কাজ করতেন। পাশাপাশি মডেলিংও করতেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুনিয়াটা অনেক ছোট হয়ে গিয়েছিল। আমার ভবিষ্যৎ চাওয়া-পাওয়া বলতে যা ছিল, আজ তাও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো। স্বপ্ন দেখার মতো কিছু নেই।’
স্ট্যাটাসে পরের অনুচ্ছেদে আক্ষেপ করে তিনি লিখেন, ‘আমার জন্য এতদিন যিনি মিডিয়াতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, আজ থেকে তার পথের কাঁটা সরে গেলো। দোয়া রইলো তার জন্য, উনি যেন সুপারস্টার হন, তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ুক চারিদিকে –এই কামনাই করি।’
তবে এই কথা কাকে উদ্দেশ করে কেন লিখেছেন তা স্পষ্ট করেননি। তবে তার স্ট্যাটাসের নিচে তার পরিচিত জন ও বন্ধুদের অনেকেই দাবি করেছেন, এক উঠতি মডেল ও উপস্থাপকের সঙ্গে সৌরভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার কাছ থেকে সম্প্রতি তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।
নিহত ফাহিম শাহরিয়ার সৌরভ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ‘যদি কখনও কাউকে কোনও প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকি তার জন্য স্যরি, ক্ষমা করে দিবেন সবাই। শেষ কথা হচ্ছে আমার জন্য কেউ যেন কাউকে দোষারোপ না করে, আমি যা করেছি আমি আমার নিজের চিন্তা ভাবনায় করেছি। আল্লাহ হাফেজ। ভালো থেকো দুনিয়ার মানুষের ।’
সৌরভের পরিবার ও বন্ধুদের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফাহিমের মা রাশেদা আক্তারের মৃত্যু হয়। সৌরভ নিজে মডেলিংয়ে কাজ করতেন। সে সুবাধে একজন নারী মডেলের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ওই মডেলের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ‘আত্মহত্যা’ করেন সৌরভ।
এ মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনাটি শুধু আত্মহত্যা না অন্যকিছু তা আমরা তদন্ত করছি। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।