'যেকোনও সংকটে নারীরাই রুখে দাঁড়ান'





পুরস্কার নিচ্ছেন এক নারী পুলিশযেকোনও দুর্যোগ-সংকটে নারীরা দু’বার মরেন, আবার যেকোনও সংকটে নারীরাই রুখে দাঁড়ান বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।


বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) রাতে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কোনও করুণা নয়, নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতাবলে সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীরা জায়গা করে নিয়েছেন। নারীর অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকার অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, “বিচারক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ, আমলা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা জায়গা করে নিয়েছেন। নারীরা কোনও ‘শো পিস’ নয়, দক্ষতা, পরিশ্রম, মেধা ও যোগ্যতাবলে তারা এই অবস্থান আদায় করে নিয়েছেন। এটা কারো করুণা কিংবা ভিক্ষা নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘নারীরা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে পুলিশে কাজ করছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নারীরা অনেক প্রশংসা অর্জন করেছে। দেশে নারীর উন্নয়নে সরকার নারী নীতিমালা করেছে। এর মাধ্যমে নারীরা আরও এগিয়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘নারীরা এখন আর ঘরে বসে থাকে না, পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের তিনটি জেলায় নারী এসপি’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তারা অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জেরর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।’
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘লাখো শহীদের বিনিময়ে আমরা দেশের স্বাধীনতা পেয়েছি। বাংলাদেশে জঙ্গিদের কোনও স্থান হবে না।’ জঙ্গিবাদ দমনে দক্ষতার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ছয় ক্যাটাগরিতে ২০ নারী পুলিশ সদস্য পেয়েছেন ‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’। কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছ থেকে তারা এই পুরস্কার নেন।
‘বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’-তে আজীবন সম্মানা পেয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (লজিস্টিক) মিলি বিশ্বাস।
পুলিশে নারী নের্তৃত্বে বিশেষ অবদান রাখায় উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস, সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রোমানা আক্তার, ডিএমপি’র ডিবি’র সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী, রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হাসিনা বেগম।
কর্মক্ষেত্রে সাহসিকতার জন্য ‘মেডেল অব কারেজ’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কুষ্টিয়া জেলার (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরানী ফেরদৌস দিশা, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মাকসুদা লিমা, বাগেরহাটের জেলা গোয়েন্দা শাখার কনস্টেবল মমতাজ খাতুন।
নাগরিক সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় ‘কমিউনিটি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, বরিশাল জেলার (কোতয়ালী থানা) সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহনাজ পারভীন, বগুড়া জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুন্নাহার আক্তার, শরিয়তপুর জেলার পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রানু আক্তার, চাঁপাইনগঞ্জের নারী ও শিশু সহায়ক ডেস্কের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোছা. ইসমাতারা।
জাতিসংঘ মিশনে বিশেষ অবদানের জন্য ‘পিস কিপিং মিশন’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ডিএমপি’র পুলিশ সুপার ফাতিমা ইয়াসমিন, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার শামীমা ইয়াসমীন।
‘এক্সিলেন্ট ইন সার্ভিস’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন পাবনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোছা. শামীমা আক্তার, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রেনিং-২) মৌসুমী মন্ডল, ডিএমপির ট্রাফিক (উত্তর) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুন্নাহার, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাসপোর্ট) মাকসুদা আকতার খানম, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কনস্টেবল সোনিয়া আক্তার।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. দিপু মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন। এছাড়াও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।