দীপ্ত সরকারের গ্রামের বাড়ি মাগুড়া জেলার শালিখা উপজেলার দীঘল গ্রামে। তার বাবা নারায়ণ সরকার। পাঁচ বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীপ্ত সবার ছোট।
এ নিয়ে বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি তিন শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ, শাহীন আকন্দ ও দীপ্ত সরকারের কেউই আর বেঁচে রইলেন না। ওই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন তাদের আরেক সহপাঠী তৌহিদুল ইসলাম।
এর আগে, বুধবার (২৮ মার্চ) রাতে মারা যান শাহীন। আর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মারা যান হাফিজ।
নিহত চারজনের সবাই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বস্ত্র প্রকৌশল বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী। ফাইনাল পরীক্ষা শেষে গত ১০ মার্চ থেকে তারা ভালুকার স্কয়ার ফ্যাশন টেক্সটাইল লিমিটেডে ইন্টার্ন শুরু করেন। তাদের সহপাঠী তুষার মাহমুদ জানান, ওই চারজন ছিলেন তাদের ক্লাসের মেধাবী শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ক্লাসে দীপ্ত দ্বিতীয়, তৌহিদ তৃতীয় ও শাহীন ছিলেন চতুর্থ স্থান অধিকারী।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৪ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে ময়মনসিংহের ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকার ছয়তলা একটি বাড়ির তৃতীয়তলায় রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ চার শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তৌহিদ। বাকি তিনজনকে রবিবার (২৫ মার্চ) ভোরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শংকর পাল জানিয়েছিলেন, শাহীনের শরীরের ৮৩ শতাংশ, হাফিজের ৫৪ শতাংশ ও দীপ্ত সরকারের ৫৮ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাদের সবারই শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা সবাই পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
আরও পড়ুন-
সংসারের হাল ধরা হলো না শাহীনের
ভালুকায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু