মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়। এসময় ‘জাস্টিস ফর বিউটি’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ধর্ষকদের বিচার না হওয়ার কারণে প্রতিদিনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে ৷ সুষ্ঠু বিচার না করে ধর্ষকদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে ৷ আমরা অবিলম্বে বিউটি আক্তারের হত্যাকারী ওই ধর্ষককে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি । ’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী রবিন আহসান বলেন, ‘বিউটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। উল্টো তাকে হত্যা করা হয়েছে। এখন ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয় নি। আসামিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন করা হবে।’
সমাজকর্মী জাকিয়া শিশির বলেন, ‘বিউটি আক্তারের ধর্ষককে অতি দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ ধরনের জঘন্য ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আয়োজক আসাদুজ্জামান মাসুম, বাকী বিল্লাহ, অপরাজিতা সংগীতা, শাকিল অরণ্যসহ অন্যান্যরা ।
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জের ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের দিনমজুর সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তারকে (১৪) বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। এরপর এক মাস তাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এক মাস নির্যাতনের পর বিউটিকে কৌশলে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় বাবুল। এ ঘটনায় গত ১ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা স্থানীয় ইউপি মেম্বার কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে মেয়েকে সায়েদ আলী তার নানার বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে ১৬ মার্চ বিউটি আক্তারকে উপজেলার গুনিপুর গ্রামের তার নানার বাড়ি থেকে রাতের আঁধারে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফের ধর্ষণের পর তাকে খুন করে লাশ হাওরে ফেলে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে ১৭ মার্চ তার বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ দুজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা কলমচান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইলকে আটক করে। কিন্তু মূল হোতা বাবুলকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।