সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রশ্নপত্র ফাঁসে তৎপরতা

 




ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি গ্রুপের ঘোষণা ১
প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেই এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ড তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায়। শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জানিয়েছেন, বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হবে বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।



সোমবার (২ এপ্রিল) থেকে শুরু এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিজি প্রেস থেকে আর প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না। ট্রেজারি থেকে কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র নেওয়ার সময় ফাঁসের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।








শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে এবার পরীক্ষা তুলনামূলক (এপারেন্টলি) ভালো হবে।’
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘আমরা আগের মতো এবারও জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছি, যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হতে পারে। প্রথমবারের মতো নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক সেটের জন্য আলাদা প্যাকেট থাকবে। প্রতিটি সেট কেন্দ্রে যাবে। বিজি প্রেস থেকে কেন্দ্রে বা থানায় প্রশ্নপত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারাই থাকবেন। নিজের দায়িত্ব অন্য কাউকে দিতে পারবেন না। ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্রে সব প্রশ্নপত্র পৌঁছানো হবে। কেন্দ্রে নির্ধারিত দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারাই প্রশ্নপত্র খুলবেন। প্রত্যেক প্যাকেট সিকিউরিটি টেপ থাকবে, যেকোনও অবস্থাতে কেউ খুললে তা জানা যাবে। কেন্দ্রে যে তিন জনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা ছাড়া কেউ সেখানে যেতে পারবেন না। এসব বিষয় আমরা নিশ্চিত করেছি।’
তিনি বলেন,‘পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে সেট খোলা হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড লটারির মাধ্যমে সেট নির্ধারণ করে ২৫ মিনিট আগে জানাবেন। ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে তার সিটে বসতে হবে। এরপরও যদি অঘটন ঘটে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় তাহলে পরীক্ষার ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, তখন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে থাকবে।’
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে করণীয় নির্ধারণে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনার সময় ফাঁস হয়। ঘটনা যদি সেটাই হয়, তাহলেই কেবল পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে প্রশ্নের সেট নির্ধারণ সিদ্ধান্তটি কাজে আসবে। আর যদি আগেই ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কোনও কাজে আসবে না।’
সক্রিয় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র!
সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ওপেনে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছে। PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center, PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center 18+19+20+21BD ছাড়াও বেশ কয়েকটি গ্রুপে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ দিন আগে থেকেই চলছে বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কিছু প্রশ্নের ছবি। ছবির কিছু অংশ ঘোলা করে দিয়ে শুধুমাত্র ওপরের অংশ স্পষ্ট দেখার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।
ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী একটি গ্রুপের ঘোষণাসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিযোগিতা করে খোলা হচ্ছে বিভিন্ন গ্রুপ। HSC 2k, HSC 2018 ছাড়াও নানা নামে তৈরি এসব গ্রুপের অ্যাডমিনরা এর আগেও এসএসসি পরীক্ষার সময়ে আন্তর্জাতিক নম্বর ব্যবহার করে গ্রুপ খুলেছিল। সেখানে প্রতিদিনই সরবরাহ করা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন। নাম ও নম্বর দিয়ে এসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এসব গ্রুপে বলা হচ্ছে, ‘প্রশ্ন দেবো, ১০০% নিশ্চিত কমনের পর টাকা। এমসিকিউ মাত্র ২৫০ টাকা। বাংলা ১ম পত্রের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরপত্রসহ দেওয়া হবে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে। আর সিকিউ প্রশ্ন দেওয়া হবে আজ (রবিবার দিবাগত) রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে। যাদের প্রশ্ন লাগবে তারা ইনবক্স করো।’
এই চক্র বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হতে কিছু শর্তও দিচ্ছে। বলছে, ‘অ্যাডমিট কার্ডের ছবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামসহ আইডিকার্ড, পরীক্ষার্থীর নিজের রিয়েল ফেসবুক আইডি দিলেই কেবল তাকে গ্রুপে অ্যাড করা হবে। এরপর যথাসময়ে প্রশ্ন দেওয়া হবে। পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমন পড়লেই টাকা পাঠাতে হবে। চিটার-বাটপাররা দূরে থাকুন।’
এসব চ্যালেঞ্জ মোকবাবিলার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষা বোর্ডগুলোও ব্যবস্থা নিয়েছে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্রসচিবসহ পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রের দূরত্ব অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছানো হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা হবে। এসব দায়িত্ব যথাযথ পালনে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ জন ছাত্র এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৭। সারাদেশের ২ হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে হবে এ পরীক্ষা।