উদ্ধার পাঁচ হাজার, মামলা ৭৫ পিস ইয়াবার: ডিসিকে তদন্ত করার নির্দেশ

ইয়াবাপাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের পর ৭৫ পিস ইয়াবা দেখিয়ে মামলা দায়ের করার অভিযোগে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির ও উপ পরিদর্শক (এসআই) এস এম কাউছারের বিরুদ্ধে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মিরপুর জোন পুলিশের ডেপুটি কমিশনারকে (ডিসি) এ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। গতকাল রবিবার (১ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. জিয়ারুল ইসলাম এই আদেশ দেন। সোমবার আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, গত ১৯ মার্চ একই আদালত সংশ্লিষ্ট থানার ওসি দাদন ফকির ও এসআই এস এম কাউছারকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শনোর আদেশ দেন। গতকাল তারা কারণ দর্শানোর লিখিত বক্তব্য জমা দিলেও তা নাকচ করে আরও অধিকতর তদন্ত করে মিরপুর জোনের ডিসিকে আদালতে প্রতিবেদনের জন্য নির্দেশ দেন একই আদালত।
আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআর) আলতাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গতকাল ওসি দাদন ফকির ও এসআই এস এম কাউছার আদালতে হাজির হয়ে লিখিত বক্তব্যসহ নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করলে আদালত তা নাকচ করে দেন। পরে মিরপুর জোনের ডিসিকে দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।’

ওই দিন (রবিবার, ১ এপ্রিল) আদালত আদেশে বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বাদী এসআই কাওছার ও ওসি দাদন অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে তাদের আইনানুগ কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। অত্র অভিযোগের আলোকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার কামাল হোসেন এবং এসি পল্লবী জোনের পদন্নোতি প্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবিএম জাকির হোসেন যে তদন্ত করেছেন সেখানে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেখানে সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার ইউসুফ সোহেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি।’

তিনি আদেশে আরও বলেন, ‘দুই একজন পুলিশ সদস্যের এমন আইন বহির্ভূত কাজ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। প্রকৃতপক্ষে এমন ঘটনা ঘটেছে কি না বা এ বিষয়ে এসআই কাওছার ও ওসি দাদনের কোনও অবহেলা ছিল কিনা তা আরও বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’

আদালতে হাজির হয়ে এসআই কাউছার উল্লেখিত ঘটনার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ উল্লেখিত এলাকা মাদকমুক্ত করার লক্ষে মাঝে মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের মধ্যে বিরোধ থাকায় আমার ধারণা পুলিশ যাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকে সেজন্য কোনও একটি মহল সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ওসি দাদন ফকিরের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।’ তবে অভিযান পরিচালনা ও তল্লাশির ক্ষেত্রে ত্রুটি ছিল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

এর আগে গত ১৪ মার্চ একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করার পর ৭৫ পিস ইয়াবা দিয়ে মামলা দেওয়ার কথা প্রকাশ পায়। গত ১৯ মার্চ ওই প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়ারুল ইসলাম আমলে নিয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাদন ফকির এবং উপ পরিদর্শক (এসআই) এসএম কাউছার সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।