সাংবাদিকতায় নারীকে যোগ্যতা দিয়েই সফল হতে হবে: মতিয়া চৌধুরী

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা: মিডিয়ার নেতৃত্বের বিকাশ শীর্ষক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী

করুণা ভিক্ষা নয়, নারীদের নিজেদের যোগ্যতা বেশি করে প্রমাণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘দেশের রাজনীতি, প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগসহ অনেক ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। সাফল্য দেখাচ্ছে। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য এখনও দৃশ্যমান। দেশের সাংবাদিকতার নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় নারীর অংশগ্রহণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংবাদিকতায় নারীকে যোগ্যতা দিয়েই সফল হতে হবে।’

এসময় মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাধা থাকবে। সেই বাধা ভেঙে এগিয়ে যেতে হবে। কোনও মেয়েকে যেন বলতে না হয়, নারী হয়ে জন্ম নেওয়াটা অপরাধ।’  

শনিবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিসিডিজেসি) আয়োজিত এক জরিপ ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন মন্ত্রী।  

নারী সাংবাদিকদের নিয়ে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা: মিডিয়ার নেতৃত্বের বিকাশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে বিসিডিজেসি এবং ইন্সটিউট অব কমিউনিকেশন স্টাডিজ (আইসিএস)।

জরিপের ফলাফলে বলা হচ্ছে, জরিপে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে ১৭ জন মাসে এক লাখ টাকার বেশি বেতন পাচ্ছেন। ১৭ সাংবাদিকের মধ্যে দৈনিক প্রথম আলোতে রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, ৭১ টেলিভিশন, নিউজ ২৪, ডিবিসি নিউজ, আমাদের অর্থনীতি, এটিএন নিউজ এবং চ্যানেল আইতে বাকি ১২ নারী সাংবাদিক শীর্ষ পদগুলোতে কাজ করছেন।

1

বলা হয়, ১৭ নারী সাংবাদিকদের মধ্যে ৫ জন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন। এক লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকার মধ্যে বেতন পাচ্ছেন অন্তত আরও ৫ জন নারী সাংবাদিক। আর ৯৯ হাজার থেকে এক লাখ ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন আরও ৭ নারী সাংবাদিক। সাংবাদিকদের জন্য প্রচলিত ওয়েজ বোর্ডের মধ্যে উচ্চতর ধাপে এসব নারী সাংবাদিক বেতন পাচ্ছেন বলে জানানো হয়।

জরিপ উপস্থাপনের সময় আইসিএস-এর নির্বাহী পরিচালক নাঈমা নার্গিস জানান, দেশের সংবাদ মাধ্যমের ১৭ নারী সাংবাদিকের ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করা হলেও দেশের যেসব সংবাদ মাধ্যমে এসব নারী সাংবাদিক কাজ করেন সেই সংবাদ মাধ্যমগুলোর নাম জানানো হয়েছে।

আলোচনায় বক্তরা বলেন, বর্তমানে টেলিভিশন চ্যানেলের কল্যাণে দেশে নারী সাংবাদিকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখনও সাংবাদিকতায় নারীর অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়। বক্তরা মনে করেন, দেশের সংবাদ মাধ্যমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

বিসিডিজেসি-এর প্রেসিডেন্ট নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ‘এক দিকে সাংবাদিকতায় কেউ কেউ উচ্চ বেতন পাচ্ছেন, আবার অনেক নারী সাংবাদিক খুব কম বেতনেও কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ নিয়মিত বেতনও দিচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন।’  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ, স্টেপ টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান নির্বাহী রঞ্জন কর্মকার। নারী সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহনাজ বেগম, মুনিমা সুলতানা, মাসুদা ভাট্টি, সামিয়া রহমান, ফারজানা রূপা, শাহনাজ শারমিন, মিথিলা ফারজানা।