আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের টিয়ারশেল, বারডেম ও বিএসএমএমইউ’র রোগীদের ভোগান্তি

পুলিশের টিয়ারশেলকোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহবাগে অবস্থিত বারডেম হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

রাজধানীর রামপুরা থেকে বিএসএমএমইউ’র সান্ধ্যকালীন চিকিৎসকের কাছে মাকে নিয়ে এসেছিলেন সুরাইয়া শবনম (৩২)। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা অন্য দিনের মতোই বাসা থেকে বের হই কিন্তু মৎস্য ভবন পার হবার পর দেখি প্রচুর জ্যাম। এরপর মাকে নিয়ে হেঁটে বিএসএমএমইউতে পৌঁছাই। আর রাতে যখন পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে তখন আমরা খুবই কষ্টকর অবস্থায় পড়ি। আশেপাশের রোগীদের অবস্থাও বেশ খারাপ ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না।’

কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক বলেন, ‘আমাদের আজ পরীক্ষা চলছিল। আমি ঢাকা ক্লাবের একটা প্রোগ্রামে ছিলাম। আমার জুনিয়র ডাক্তাররা ক্যাম্পাসে ছিল। তারা আমাকে সেখানকার পরিস্থিতি জানায়। পরে ক্যাম্পাসে আসতে গেলে প্রচুর জ্যামের মধ্যে পড়ি। অনেক ঘুরে ক্যাম্পাসে আসি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের আশেপাশে এমন আন্দোলন না হলেই ভালো। আন্দোলনের কারণে রোগীরা ঠিকমতো আসতে পারেননি, তাছাড়া চিকিৎসকরাও সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেননি।

এ প্রসঙ্গে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘আমি যতদূর জানি আমাদের রোগীদের তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। আমি ডিরেক্টর সাহেবকে দায়িত্ব দিয়েছি, কোনও সমস্যা হলে আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাবে।’

এ প্রসঙ্গে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ-আল-হারুন বলেন, ‘আমি রাতে আমার টিম নিয়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেছি। আমাকে কেউ কোনও ধরনের কমপ্লেইন করেনি। বিকট বিকট শব্দ হয়েছে রোগীরা তো একটু ভয় পেয়েছেই। সেটা তো স্বাভাবিক।’