অস্ত্রোপচার হলেই ভালো হয়ে যাবো: জেবা তাসনিয়া

‘সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবনের গায়ে আমাদের বাড়ি। আমি এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আমার কবিতা লিখতে, আবৃত্তি করতে এবং গান গাইতে খুব ভাল লাগে। মার্চ মাসের ৫ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। একবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরও তিনবার করতে হবে। এবার করলে পুরোটা ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।’ এভাবেই এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বলছিল জেবা তাসনিয়া।

Jeba Tasnim 02জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মেছিল মেয়েটি। বয়স যত বেড়েছে মুখের এক পাশের মাংস তত বেড়েছে। এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ৬১১ নম্বর কেবিনে ভর্তি রয়েছে। স্বপ্ন দেখছে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার। সে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন রোগে আক্রান্ত।

জেবা তাসনিয়া জানায়, সে বাড়ি থেকে আসার সময় বই খাতা সঙ্গে নিয়ে এসেছে। কারণ সামনে ক্লাস ফাইভের পরীক্ষায় ভালো করতে হবে।

সে জানায়, জোড়া মাথার শিশুর যারা অস্ত্রোপচার করেছেন সেই চিকিৎসকরাই তার অস্ত্রোপচার করবেন।

জেবারা এক ভাই, এক বোন। ছোট্ট ভাইটির সঙ্গে খুনসুটি করে আনন্দময় সময় কাটে তার। ভাইয়ের সঙ্গে কি কর? জানতে চাইলে তার হাস্যোজ্জ্বল উত্তর, ভাই শুধু আমার সঙ্গে মারামারি করে।

মা নাসিমা খাতুন হাইস্কুলের শিক্ষক। বাবা হাসান হাফিজুর রহমান কলেজের লাইব্রেরিয়ান।

জেবা বলে, আমাকে দেখে আবুল কালাম আজাদ স্যার, রুমানা পারভীন ম্যাম, লতা ম্যাম। উনারা আমাকে খুব আদর করেন। উনারা বলেছেন, আমি ভালো হয়ে যাবো। অস্ত্রোপচারের জন্য ছয় ব্যাগ রক্ত লাগবে। আমার রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। রক্ত লাগলে আমার জন্য রক্তের ব্যবস্থা হবে না বলো? নিশ্চয় হয়ে যাবে। তাই না!

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছোট্ট জেবা। নাচ, গান ও অভিনয় করে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। জুটেছে নানা পুরস্কার। এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডই তাকে সুযোগ করে দিয়েছে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার।

জেবা বলেন, আমাদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর প্রোগ্রামে যান। আমি সেখানে পুরস্কার পাই। মন্ত্রী শিক্ষকদের কাছ থেকে আমার ব্যাপারে সবকিছু জানতে পারেন। এরপর তিনিই আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। এরপর থেকে তিনি যোগাযোগ রাখছেন। তিনি চান আমি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যাই।

জেবার মা চাকরিজীবী, তাই চাচি নাজমা রহমান তার সঙ্গে হাসপাতালে আছে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওর বাবারা চার ভাই। আমাদের চাই মেয়ে ভালো হয়ে উঠুক। ওর জন্মের সময় মুখের এক পাশে লালচে হয়ে ছিল। সেই লালচে দাগ ও যত বড় হচ্ছে তত ফুলে যাচ্ছে। আমরা এলাকার এমন কোনও চিকিৎসক নেই যার কাছে নিয়ে যাইনি। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নিয়ে গেছি। সেখানকার চিকিৎসকরা বলেছে, বাংলাদেশে এই চিকিৎসা থাকলে এখানেই করানো ভালো। এরপর মন্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয় এবং তিনি তাকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা ওর ব্যাপারে খুবই আন্তরিক।

শিশুটির বাবা হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এখন চিকিৎসকরা কি বলবেন সেই অপেক্ষায় রয়েছি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ওর অস্ত্রোপচারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করি, সে ভালো হয়ে উঠবে। চিকিৎসা ব্যয় সম্পর্কে তিনি বলেন, জোড়া মাথার শিশুদের যে খরচ হয়েছে তারও তেমন খরচ হওয়ার কথা।